উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আজ রাতে এমিরেটসে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনাল ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। মেত্রোপলিতানোতে প্রথম লেগটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় ফাইনালের টিকিট নেওয়ার লড়াই পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে। দীর্ঘ দশ বছর পর ইউরোপীয় মঞ্চের চূড়ায় ফেরার স্বপ্ন নিয়ে নামছে স্প্যানিশ ক্লাবটি এবং দলের প্রধান ফরোয়ার্ড আন্তোয়ান গ্রিজম্যান সেই ইতিহাস গড়ার ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী।
দিয়োগো সিমিওনের কোচিংয়ে অ্যাতলেটিকো জয়ের উদ্দেশ্য নিয়েই মাঠে নামবে। গ্রিজম্যান বলছেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বিশাল সুযোগ সবসময় আসে না, তাই এটিকে হাতছাড়া করা বঞ্চনীয়। ব্যক্তিগতভাবে ২০১৬ সালের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে যে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ রয়েছে, সেটি মুছতেই এবার তিনি আরও অনুতপ্ত ও প্রেরণাবাহী। যদিও ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ ও ইউরোপা লিগের স্বাদ পেয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি এখনো তাঁর কাছে অপূর্ণ একটি স্বপ্ন।
রোকথামার তথ্য হিসেবে চলতি মৌসুমের মাঝপথে গ্রিজম্যান যখন ক্লাবছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে আলোচনা বাড়ছিল, তখন মার্চে মেজর লিগ সকারের অরল্যান্ডো সিটির প্রস্তাবও এসেছিল। তবু শেষ পর্যন্ত তিনি মাদ্রিদেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেছেন, দলের সঙ্গে এখনও বড় কিছু জয়ের আশা রয়েছে—এবং সেই বিশ্বাসে তিনি অন্য গন্তব্যে পাড়ি দেননি।
গ্রিজম্যান জীবনের এই পর্যায়ে নিজেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত ও মানসিকভাবে স্থির মনে করেন। ২০১৬ সালে ফাইনাল খেলায় অতিবেশী মানসিক চাপ তাঁকে খেলাটা উপভোগ করতে বাধা দিয়েছিল, কিন্তু এখন তিনি মাঠে শান্তি ও আনন্দ নিয়ে খেলছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ধারণাকৃত প্রতিকূল পরিবেশেও ধীরস্থির থাকা এবং নিজ সেরাটা দিয়ে দলকে ফাইনালে নেয়ার আত্মবিশ্বাস তাঁর ভেতরে স্পষ্ট।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এখন ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের মাত্র দুটি ম্যাচ দূরত্বে রয়েছে। আজকের বাধা পার করতে পারলে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে পিএসজি কিংবা বায়ার্ন মিউনিখ—আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই বড় নাম। গ্রিজম্যান কিশোর বয়স থেকেই এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখেছেন এবং তিনি মনে করেন সঠিক পরিকল্পনা ও দলগত একতা থাকলে অ্যাটলেটিকো এই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করতে সক্ষম হবে।
রাতের ম্যাচে ক্রীড়ানুরাগীরা প্রতিযোগিতার তীব্রতা, কৌশলগত লড়াই আর ব্যক্তিগত রিডেমশন—এমন সব দৃশ্যের প্রত্যাশা করতে পারে। গ্রিজম্যানও বলছেন, এমিরেটসের মাঠে যেখানে পরিবেশ নিজেদের বিরোধী, সেখানে ধৈর্য ধরে খেললে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তারা প্রত্যাশিত ফল নিতে পারবে।






