সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ঘরের মাঠে বুধবার সন্ধ্যায় এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসকে ৩৩ রানের ব্যবধানে হারিয়ে নিয়েছে প্যাট কামিন্সের দল। কুপার কনলির ঝড়ো এক সেঞ্চুরিও শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাবকে জিতিয়ে দিতে পারেনি।
প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান সংগ্রহ করে। ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা দ্রুত সূচনা দেন—মাত্র ৩.২ ওভারে দলের স্কোর ৫০ ছাড়ায়। অভিষেক মাত্র ১৩ বল খেলে ৩৫ এবং হেড ১৯ বল খেলে ৩৮ রান করে ফিরলেও মাঝখানে ইশান কিষাণ ও হেইনরিখ ক্লাসেনের জুটি দলের রানের গতি ধরে রাখে। তাদের ৮৮ রানের কার্যকর জুটিতে বড় সংগ্রহ দাঁড়ায়। ইশান ৩২ বল মোকাবেলায় ৫৫ এবং ক্লাসেন ৪৩ বল খেলে ৩টি চারে ও ৪টি ছক্কায় ৬৯ রানে ঝড়ে ওঠেন। শেষ ওভারে নীতিশ কুমার রেড্ডির শর্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ১৩ বলের ২৯ রানের ইনিংসে হায়দরাবাদ ২৩৫ রানের শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
জবাবে তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাঞ্জাব। মাত্র দলীয় ৪ রানে ওপেনার প্রভসিমরন সিং ও প্রিয়াংশ আর্যকে হারিয়ে বিপরীতে ধুঁকতে থাকে তারা, পাশাপাশি অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও মাত্র ৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দলের স্কোর ১১৯ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে—তখনই কুপার কনলি এককভাবে লড়াইয়ের পরশ ছড়ান।
কনলি মাত্র ২২ বছর ২৫৭ দিন বয়সে আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ বিদেশি শতককারের রেকর্ড গড়েন। তিনি ৫৯ বল খেলে অপরাজিত ১০৭ রান করে, যা ছিল ৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো বিধ্বংসী এক ইনিংস। তবু তার ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি পাঞ্জাবকে জয়ের পথে ঠেকাতে পারল না; দল ২০২ রানে থামে। কনলির এই পারফরম্যান্স পাঞ্জাব জার্সি পরিহিত ২২ বছর বয়সী কোনো ক্রিকেটারের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও হয়ে গেল।
হায়দরাবাদের পক্ষে প্যাট কামিন্স ও শিবাং কুমার দুজন করে উইকেট নেন এবং বোলিংয়ে দলের অবদান ছিল সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্য যে, হায়দরাবাদ এই জয়ে নিজেদের মাঠে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলায় ১১টির মধ্যে ১০টিতেই জয় উপভোগ করার বিশেষ রেকর্ড ধরে রাখল; পাশাপাশি ২০১৫ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ঘরের মাঠে পাঞ্জাবকে টানা ৯ ম্যাচে হারানোর অনন্য নজিরও তৈরি করল অরেঞ্জ আর্মি। আরো একটি বৈচিত্র্যময় রেকর্ড—আইপিএলের ইতিহাসে হায়দরাবাদ এতদূর পর্যন্ত ২২০-এর বেশি পুঁজি নিয়ে খেললে প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে, এবং সেই অনুগামিতা এই ম্যাচেও বজায় থাকল।
এই পরাজয়ের ফলে পাঞ্জাব কিংসের প্লে-অফের রাস্তা আরও জটিলতর হয়েছে, কিন্তু কুপার কনলির ব্যাটিং নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত কৃতিত্ব থাকা সত্ত্বেও দলের সমর্থনও প্রয়োজন—তাই কনলির সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত কিছুটা ম্লান প্রতিফলনেই রয়ে গেল। অন্যদিকে হায়দরাবাদ ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পয়েন্ট টেবিলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।






