মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, কিছু রাজনীতিক ও শাসকগোষ্ঠী তাদের গুম, হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটকে ঢেকে রাখতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের একক কৃতিত্ব দেখাতে চেয়েছে এবং ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নস্যাৎ করেছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুর ২টায় গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন পরিদর্শন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘গুম, খুন, হত্যা ও লুটপাটের মতো অসংখ্য অপরাধের সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসাও জড়িত আছে—এমন কোনো দমনমূলক কাজ নেই যা তারা করেনি। আর এসব অপরাধকে জায়েজ করার জন্য তারা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’
ইশরাক আরও বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখনই ২০০১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক মূল্যায়ন কাজটা তখনই শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান বিএনপির লিডার তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক।
প্রতিমন্ত্রী মূল্যায়ন সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দিষ্ট সমস্যা নিযে কড়া কথা বলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করা, বীর নিবাস নির্মাণে অনিয়ম এবং ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো না হওয়া—এসব ইস্যুতে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম পিন্টু মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন। তিনি বক্তৃতায় বলেন, ‘যদি মুক্তিযুদ্ধ না হতো, আমরা আজ স্বাধীন দেশ পেতাম না। অনেকেই ২৪ তারিখের গণঅভ্যুত্থানকে স্বাধীনতা যুদ্ধের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, কিন্তু কথা হলো—দেশ স্বাধীন না হলে আজকের আন্দোলনের সুযোগই হতো না। ১৯৭১ সালে ছিল দেশ শত্রুমুক্ত করার আন্দোলন, আর ২৪ তার মোড়কে ছিল স্বৈরাচ্যবিরোধী আন্দোলন।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান এবং গজারিয়া থানা অফিসারের ইনচার্জ মো. হাসান আলী।
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ.কে.এম. গিয়াস উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম ভিপি মাসুম, মাসুদ ফারুক, ইসহাক আলী, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাজির আহমেদ শিকদার ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ।
প্রতিমন্ত্রীর একাধিক অভিযোগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কথাবার্তা স্থানীয় পর্যায়ে শুনে ঐ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা ও নেতারা শিক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।






