দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারাটা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে প্রধান সূচকগুলো নেমে গেছে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত সাত কার্যদিবসের মধ্যে ছয়দিনই পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে এবং একসঙ্গে লেনদেনের গতিও মন্থর হয়ে পড়েছে।
ডিএসইর দিনের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুরুর দিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও তা মাত্র এক ঘণ্টা টিকে ছিল। প্রথম ঘণ্টার পর বিক্রয়চাপ বাড়তে থাকায় দাম বাড়ার সংখ্যা দ্রুত সংকুচিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক ধারা বজায় থাকে। দিনশেষে ডিএসইতে ১৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৮৯টির দাম কমেছে এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বিশেষত ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০২টির দরপতন দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মানসিকতায় চাপ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডগুলোরও সিংহভাগের দর সংশোধিত হয়েছে।
সূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট কমে ৫,২০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক ০.৬৫ পয়েন্টে কমেছে। সূচক হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে — ২১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা কমে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৭১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। আজকের লেনদেনে শীর্ষে ছিল মুন্নু সিরামিক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং বিডি থাই ফুড; পাশাপাশি লাভেলো আইসক্রিম, এপেক্স ফুটওয়্যার ও এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজেও উল্লেখযোগ্য হাতবদল হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক কাসপিআই 이날 ৩ পয়েন্ট কমেছে। বাজারে অংশ নেওয়া ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৮টির দাম কমেছে এবং ৭৫টির দাম বেড়েছে। তবে সিএসইয়ের লেনদেন একটু বাড়ে — এটি গত দিনের তুলনায় বেড়ে ২০ কোটি ৫১ লাখটাকায় পৌঁছেছে।
মোট দেখে বোঝা যায় বিনিয়োগকারীরা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ সতর্ক; বাজারই এখন কোনো স্পষ্ট ইতিবাচক প্রভাবে না গেলে স্থিতিশীল হতে পারছে না। ভবিষ্যৎ সেশনে কোনো মৌলিক বা নীতিগত প্রভাব না গেলে এই মন্থর ও উদ্যোগহীন ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।






