সতর্ক করার পরও স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি কথিত পরকীয়া প্রেমিক আনিস। এই ভুলের কারণে ক্ষোভে ঢেকে যায় তার মনে। এরই ফলশ্রুতি হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সেই প্রেমিককে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৩ বছর পরে সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে আদালতে।
গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৯ এর বিচারক মাহমুদুল ইসলাম আনিস হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মো. শাহাদাৎ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এর পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় শাহাদাৎ হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাকে আবারও কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সরকার।
মামলার বিবরণে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রীর সাথে নিহত আনিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শাহাদাৎ তাকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ও দেখা বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু সাবধানবার্তা উপেক্ষা করে আনিস আবারও শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রীকে দেখা করেন। এ কারণেই তার মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
অবশেষে ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তেজগাঁও থানার আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পাশে, মা মেডিকেল স্টোরের বিপরীতে ফুটপাতের পাশে আনিসের ওপর হামলা চালানো হয়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারী দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাসদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযোগ গঠন ও বিচার কার্যক্রমের জন্য ২০১৩ সালের ২৭ মে আদালত নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয় এবং শেষমেশ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।






