কুমিল্লা নগরীর পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করতে নতুন ওয়াসা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় সরকার প্রশাসন দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরবাসীর নিরাপদ পানির চাহিদা মেটাতে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, সভাপতিত্ব করেন।
সভায় কুমিল্লা নগরীর দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, ত্বরান্বিত নগরায়ন ও নিরাপদ পানির চাহিদি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত পানি সরবরাহের গুরুত্ব অনুধাবনযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা শহরের নাগরিকদের জন্য কার্যকর, স্বচ্ছ ও আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ওয়াসা গঠন সময়োপযোগী। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত এবং টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বর্তমানে দেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট—মোট পাঁচটি ওয়াসা রয়েছে। কুমিল্লায় ওয়াসা গঠিত হলে এ সংখ্যা বেড়ে ছয়টি হবে। ওয়াসার মূল দায়িত্বে রয়েছে নগর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, বর্জ্যজল শোধন এবং পাইপলাইন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন। এসব কার্যক্রম নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবা আধুনিক ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন উপযুক্ত কাঠামো, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, এবং প্রয়োজনে আইনি সমন্বয়ের কাজ দ্রুত এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। কুমিল্লায় নতুন ওয়াসা প্রতিষ্ঠা হলে পানি সরবরাহে স্থায়িত্ব, বর্জ্যজল ব্যবস্থাপনায় উন্নতি ও শহরের সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনমানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।






