শিক্ষকদের পদোন্নতির আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের সেশনজট—এই দ্বাধা ঘটায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় টাতে পড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে। পদোন্নতির দাবিতে চার দিন ধরে অনড় থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের নির্দেশে এবং রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবনের তালা কেটে দেয়া হয়।
তালা ভাঙার পর দপ্তরি কার্যক্রম আটকাতেই শুরু হয়, কিন্তু ক্লাস বা পরীক্ষা চালু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষকদলের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে ক্যাম্পাস জুড়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।
ঘটনার শুরু হয়েছিল গত সোমবার (১১ মে), যখন পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত একাংশ শিক্ষক উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে রেজিস্ট্রার ও অর্থদপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ দফতরে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর পরিস্থিতি জটিল রূপ নেয়; আলোচনা-সমঝোতার ডাক দিলেও শিক্ষকরা তা মেনে না গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান।
শুক্রবারই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পরিস্থিতি দেখতে পান। উপাচার্য শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শিক্ষকরা আলোচনায় বসেননি। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের নিকট তালা খুলে কার্যক্রম চালুর দাবি জানান। সব পথ বন্ধ দেখে উপাচার্য তালা কেটে কাজ স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন।
অর্থ দপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর তালা খুলে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘‘উপাচার্য স্যারের নির্দেশেই তালা খোলা হয়েছে। এখন অন্তত দপ্তরের কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে করা যাবে।’’
তবে প্রশাসনিক দরজা খুললেও শিক্ষার্থীদের fate-র দরজা এখনও বন্ধই আছে। আন্দোলনের কারণে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬টি চূড়ান্ত পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তাদের অনেকে যখন অনার্স শেষ করে চাকরির জন্য আবেদন ও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ববির শিক্ষার্থীরা সেশনজটেই আটকে পড়ছেন। অনার্স শেষ করতে না পারায় সরকারি চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ভয় জ্বলজ্বলে।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী অদৃষ্টে ফুঁসলেন, ‘‘আমাদের ব্যাচের বাকিরা অনার্স শেষ করেছে, শুধু আমাদের পরীক্ষা আটকে আছে। তাদের দাবি বোঝা যায়, তবে আমাদের জীবন কেন ভাঙছে? শেষ পর্যন্ত জ্বাল্লা আমরা হই।’’
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এই আন্দোলনকে সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘‘২৪টি অধ্যাপকের পদে ১২টি পদের জন্য পজিশন তৈরি হয়নি — এ সমস্যা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি মিলে সমাধান করবে। কিন্তু মাত্র ১২জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবি পূরণের জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি।’’
অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের পক্ষে সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘‘আমরাও ক্লাস চালাতে চাই। ২০২৩ সাল থেকে পদোন্নতি হয়নি, দীর্ঘ এই অপেক্ষা আমাদেরকেও কষ্ট দেয়। পরীক্ষাগুলো বাতিল হলে পরে চাপ আমাদের ওপরই এসে পড়বে; শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদেরও খারাপ লাগে।’’
এখনো পরিস্কার না যে ভাঙা তালার পর কবে থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা স্বাভাবিক হবে। প্রশাসনিক কাজ চালু থাকলেও শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। পরিস্থিতি ঠিকঠাকভাবে মিটতে হলে দ্রুত সমঝোতা ও উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে, নয়তো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাই।






