পাকিস্তান ও চীনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে ১২২ কোটি ডলারের একটি ব্যাপক বিনিয়োগ চুক্তি বেইজিংয়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনের রাজধানীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের চার দিনের সরকারি সফরের সময় এই ঐতিহাসিক চুক্তি ও একাধিক সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন করা হয়। চুক্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, ওষুধ শিল্প এবং স্মার্ট প্রযুক্তিসহ আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের উপস্থিতিতে দুই দেশের উর্দ্ধতন প্রতিনিধিরা চূড়ান্তভাবে এই দলিলে স্বাক্ষর করেন।
এই বড় বিনিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দু’দেশের সহযোগিতা আরও জোরালো করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরীকৃত ধারাগুলো পাকিস্তানের বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন। চুক্তির ফলে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) ছাড়াও নতুন নতুন সেক্টরে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত হবে। পাকিস্তান সরকার আশা করছে, এই আর্থিক সহযোগিতা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেহবাজ শরীফ বেইজিংয়ে চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতি বা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন চীন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে এবং পাকিস্তানকে চীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন। জবাবে শেহবাজ শরীফ দুই দেশের সম্পর্ককে ‘আয়রন ব্রাদার’ বা অটুট ভ্রাতৃত্ব হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের বন্ধুত্বের গভীরতা উল্লিখিত করেন।
বৈঠক কেবল অর্থনৈতিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না; আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি নিয়েও আলোচনা হয়। মিটিংয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের উপস্থিতি বৈঠকের কৌশলগত গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে তোলে। চীনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের ইরান সংকট নিরসনে নেয়া শান্তিপূর্ণ উদ্যোগগুলো প্রশংসিত হয় এবং দুই দেশই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঘন সহযোগিতা ও কৌশলগত ঐক্যের ওপর জোর দেন।
সর্বশেষ বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ১২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি ও বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের মাধ্যমে পাকিস্তানের উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব সুদৃঢ় হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও চীন-পাকিস্তানের অবস্থানকে তীব্র করে তুলবে।






