প্রথমে পার্বত্য প্রতিকূলতা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশি নারীরা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে ইতিহাস রচনার যোগ্যতা দেখিয়েছেন। নেপালের স্বচ্ছন্দে ২৭ মে ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন। বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত নিশ্চিত করেছে। এই সফলতা বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহী সমাজে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে, কারণ দীর্ঘ ১৪ বছর পর তিনিই তৃতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে ২০১২ সালে নিশাত মজুমদার এবং পরে ওয়াসফিয়া নাজরীন এই বিরাট স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন।
নুরুন্নাহার নিম্নি ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে যাত্রা করেন এবং কাঠমান্ডু ও লুকলা হয়ে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছান। সেখানে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর ১৭ মে তার চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেন। মাঝপথে ২৩ মে ক্যাম্প-৪-এ পৌঁছালেও কঠোর আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসে। তবে তিনি হাল ছাড়েননি, ক্যাম্প-২-এ অবস্থান করে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অপেক্ষা করেন। অবশেষে ২৫ মে আবহাওয়া অনুকূল হলে, পুনরায় চূড়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। সোমবার সন্ধ্যায় শুরু করেন যাত্রা, এবং মঙ্গলবার ভোরে নেপালের একটি শেরপার সহায়তায় সফলভাবে শিখর স্পর্শ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি পূবালী ব্যাংক পিএলসি-র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কাজ করেন। রংপুরের এই কৃতি সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে পড়াশোনা করেন। ২০০৬ সালে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে প্রথম ট্রেকিং করে পাহাড়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ জাগে। দেশের বাইরে ও দেশের বিভিন্ন পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে এভারেস্ট জয় করার স্বপ্ন দেখাতে উৎসাহিত করে। ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেন এবং বিএমটিসির সঙ্গে যুক্ত হন।
বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে ২০১০ সালে মুসা ইব্রাহীমের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই স্বর্ণযাত্রা, এরপর ধারাবাহিক সফলতায় এগোতে থাকেন এম এ মুহিত, সজল খালেদ, বাবর আলী ও ইকরামুল হাসান শাকিলসহ আরও বহু অভিযাত্রী। ২০২৬ সালে দেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আবারো এভারেস্টের শীর্ষে আরোহণ করে তিনি বাংলাদেশের গর্বে নতুন পালক যুক্ত করেন। নুরুন্নাহার নিম্নির এই অদম্য স্পৃহা ও সফলতা দেশের নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার মাধ্যম হয়ে থাকবে।






