পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ৭৪টি কারাগারে অবস্থানরত প্রায় ৮২ হাজার বন্দির জন্য বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় প্রতিটি কারাগারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে বন্দিরা একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। এই উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সকাল থেকেই বন্দিদের জন্য পরিবেশনা করা হয় ঐতিহ্যবাহী পায়েস এবং মুড়ি। কারা অধিদপ্তর জানায়, বন্দিদের মানসিক শান্তি ও ঈদের খুশি ভাগ করে নিতে এই নানা আয়োজন করা হয়েছে।
দুপুরের খাবারে বন্দিদের জন্য এক বিশেষ জাঁকজমকপুর্ণ মেন্যু প্রস্তুত করা হয়। এতে পরিবেশন করা হয় সুগন্ধি পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস। এছাড়া থাকছে মিষ্টি ও চমচম ডেজার্ট। খাবারকে আরও উপভোগ্য করে তোলা হয় কোমল পানীয়, সালাদ ও পান-সুপারির ব্যবস্থা নিয়ে। রাতের খাবারেও থাকছে ভিন্নরকম সংযোজন—সাদা ভাত, ঝালো রুই মাছ ভাজা ও সুস্বাদু আলুর দম। প্রতিটি পদ মানসম্পন্ন হবে তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেল সুপারদের।
ঈদের এই সময়ে বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয় শর্তিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারাগারগুলোর বাইরে স্থাপন করা হয়েছে ফ্রি জুস কর্নার। পাশাপাশি, বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের জন্য চকলেট ও চিপসের ব্যবস্থা রাখা হয়। স্বজনরা অতিরিক্ত সময় কথা বলতে পারবেন এবং বিশেষ সাক্ষাতের সুবিধাও দেওয়া হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের নতুন পোশাক ও পাঞ্জাবি গ্রহণের সুযোগ মিলে। এছাড়া, অসুস্থ ও বৃদ্ধ বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধের যোগান নিশ্চিত করা হয়।
উৎসবের আনন্দ শুধু খাবার ও যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি কারাগারে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিন প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিন প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি, কারা বিধি অনুসারে, তিন দিন ঈদে এক দিন বন্দিরা পরিবারের পাঠানো খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। এই সময় মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময়ও বাড়ানো হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শকের সহকারী মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, বন্দিরা যেন নিজেদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, সেই জন্য এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ও মানসম্পন্ন খাবার এই পরিকল্পনা বন্দিদের সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা। নিরাপত্তার কঠোরতা বজায় রেখে মানবিক এই উদ্যোগগুলো দেশজুড়ে খুব সুশৃঙ্খলভাবে চালু করা হচ্ছে।






