আসলিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের মতো দুই মহাতারকাকে নিয়ে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার এই মুহূর্তটি দেশটির জন্য অতীব আবেগঘন ও ঐতিহাসিক। আনন্দ ও উত্তেজনার এই আবহে নরওয়ের ৮৯ বছর বয়সী রাজা হারাল্ড পঞ্চম একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণায় ভাবগম্ভীর মুহূর্ত সৃষ্টি করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নরওয়ে এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তি দেখাতে মুখিয়ে আছে।
ঘোষিত দলে প্রত্যাশিতভাবেই অধিনায়কত্ব পেয়েছেন আর্সেনালের তারকা মার্টিন ওডেগার্ড। আক্রমণে তার মূল সঙ্গী ছাড়াও দলের সব ভরসা হয়ে থাকছেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আরলিং ব্রাউট হালান্ড। আক্রমণভাগে আরও ঠাঁই পেয়েছেন কয়েকজন পরিচিত নাম—ফুলহ্যামের অস্কার বব এবং ইয়োর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনের মতো ফরোয়ার্ডরা, ফলে নরওয়ের আক্রমণভাগ শক্তিশালী ও বহুমুখী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সুন্দর সমন্বয়ে গড়া এই দলটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে।
দলে কিছু চমকও রয়েছে। এখনও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা হামবুর্গের তরুণ গোলরক্ষক সান্ডার ট্যাংভিক সুযোগ পেয়েছেন, যা অনেকেরই চোখ কাড়ছে। গোলরক্ষক হিসেবে আরও জায়গা পেয়েছেন ওর্জান হাসকজোল্ড নিল্যান্ড ও এগিল সেলভিক। রক্ষণভাগে আছেন জুলিয়ান রিয়ারসন, ক্রিস্টোফার আয়ের এবং লিও স্কিরি ওস্টিগার্ডের মতো পরীক্ষিত প্রতিরক্ষীরা। মোটকথা—প্রতিটি লাইনেই শক্ত বাঁধন গড়া হয়েছে যাতে হালান্ডকে সামনে রেখে গোল করার পরিকল্পনা সফলভাবে চালানো যায়।
মধ্যমাঠে আক্রমণসংযোগের দায়িত্বে থাকবেন অধিনায়ক ওডেগার্ড; তাঁর পাশে খেলবেন স্যান্ডার বার্গ, ফ্রেডরিক আউরসনেস এবং প্যাট্রিক বার্গ—যারা দলের বলসংগ্রহ ও রপ্তানি করে আক্রমণ চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আক্রমণে হালান্ড ও লারসেনের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন আলেকজান্ডার সরলথ এবং উদীয়মান তারকা আন্তোনিও নুসা, ফলে ডেডলি কনট্যাক্টের বিকল্প সবলাইনেই তৈরী আছে।
নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান ১৬ জুন বোস্টনে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে। গ্রুপ পর্বে তাদের পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ হবে সেনেগাল ও বর্তমান শক্তিশালী দল ফ্রান্স। দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার পর বিশ্ববফলে প্রবেশ করা নরওয়ে এবার বড় একটু চমক দেখাতে পারে—এমনই প্রত্যাশা বলছে অনেকে।
সংক্ষেপে বলা যায়, নরওয়ের এই দল নর্ডিক ফুটবলের ঐতিহ্য ও আধুনিক পেশাদারিত্বের সুন্দর মেলবন্ধন। রাজা দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে ঘোষণা করা এই মুহূর্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে দেশপ্রেম এবং প্রেরণা জোগাবে—আর সমর্থকদের মধ্যে বড় স্বপ্ন দেখার আশাব্যঞ্জক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফেরার এই যাত্রায় হালান্ড-ওডেগার্ডরা নরওয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করার চেষ্টা করবেন বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।






