বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই অনুষ্ঠানে তিনি নিজ হাতে এসব বস্ত্র তুলে দেন। মূলত, প্রয়াত নেতার স্মৃতি ও আদর্শকে স্মরণ করে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে মাসব্যাপী সমাজসেবা কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে এই আয়োজন করা হয়।
বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী সেই দিন অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের একটি নতুন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরামর্শ ও চিকিৎসা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাঁদের অভিযোগ ও দিকনির্দেশনা ব্যক্ত করেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আলোচ্য এই মানবিক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এই কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নেন। এছাড়াও, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীকে উৎসাহিত করেন।
এদিকে, জিয়াউর রহমানের শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দিনব্যাপী ঢাকার উত্তরা ও দক্ষিণার বিভিন্ন স্থানে মোট ১৬টি মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১১:৩০-এর দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তাঁরা শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে তিনি প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন ও দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করে থাকেন।
উল্লেখ্য, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে এবারও বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপকভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে দুস্ত ও অসহায় মানুষের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমূলক দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।






