দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও সহিংস মব হামলা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সদ্য প্রকাশিত মে মাসের ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং রিপোর্ট’ এতে এই চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বরে ১০ জন নিহতের পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ২১, ১৮, ১৯ ও ২১ জনে পৌঁছেছিল। কিন্তু মে মাসে এসে এই সংখ্যাটি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ এ দাঁড়ায়, যা উদ্বেগের বিষয়।
এমএসএফ আরও জানিয়েছে, সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক বিরোধগুলো সহিংসতার রূপ নিয়ে বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মবের হামলার শিকার হচ্ছে, যা দেশের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের দুর্বলতা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা সূচিত করে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সীমান্তে সহিংসতা, রাজনৈতিক উন্মাদনা ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাবলিও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে ভারতের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে চারজনসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন, একইভাবে মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি মারা গেছেন।
এছাড়া, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় তিনজনের মৃত্যু ও প্রায় ১৯৩ জন আহত হয়েছে। এ সময়ে ধর্ষণের ঘটনাও ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে, মে মাসে মোট ৭০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৬টি দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ৬টি ধর্ষণের পর হত্যা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই মাসে ৫৩টি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং কারাগারে সাতজনের মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটি। সবমিলিয়ে, এই পরিস্থিতি দেশের মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নির্দেশ করে এবং এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে দেশের সংশ্লিষ্ট মহলকে।






