পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও দিক থেকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডি১২ জানুয়ারি, বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত আলোচনায় এই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি যেসব চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, তার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের ওপর শূন্য শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের উৎপাদিত পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান আরো বাড়বে। তিনি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য কূটনীতি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশীয় বিভিন্ন সংস্থা, যেমন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমত কাজের সমন্বয় করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন ইউরোপ, আমেরিকা ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের মতো উদীয়মান বাজারে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করছে। এর ফলে বাংলাদেশে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
খলিলুর রহমান বলছেন, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন অঙ্গীকার ও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে আলু রপ্তানি, এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আমের রপ্তানি সম্ভাবনার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার। রোহিঙ্গাদের জন্য প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে রেযুক্ত আলোচনাও চলমান, বিশেষ করে রাখাইন পরিস্থিতি ও আলোচনার প্রসঙ্গ। উল্লেখ্য, সরকারের জনপ্রশাসন গ্রহণের পরে, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আর্মির শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা আগে কখনো হয়নি।
শেখজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার বৈশ্বিক উপস্থিতি বৃদ্ধির জন্য বিদেশে কূটনৈতিক মিশন চালাচ্ছে। এর ফলে, বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশে ২০টি মিশনে দেশের নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আরও ৪টি প্রকল্প চলমান হলেও, অনেক মিশন ভাড়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার জন্য সরকারের বার্ষিক খরচ প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
শেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশে বাংলাদেশের নিজস্ব কূটনৈতিক স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে। এই উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন দেশে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চলছে, যাতে দেশের মর্যাদা ও কূটনৈতিক কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়, পাশাপাশি সরকারি খরচ কমে আসে।






