চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে চার দফায় বাংলাদেশে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা। বিএসএফ বিভিন্ন কৌশল, রাতভর অভিযান এবং নদীপথ ব্যবহার করেও উদ্দেশ্যে সফল হতে পারেনি।
পুশইন বলতে সীমান্ত দিয়ে মানুষকে জোরপূর্বক বা গোপনে অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঢুকিয়ে দেয়াকে বোঝায়। স্থানীয় সূত্রে ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফ এই চেষ্টাগুলোতে ভৌগোলিক অবস্থান, খারাপ আবহাওয়া ও সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় দালাল-মাঝিদের মাধ্যমে নৌকাযোগে পুশইন করার চেষ্টা করেছিল। এছাড়া পুশইনে বেশি সংখ্যক নারী ও শিশু রাখা হয়ে থাকে যাতে মানবিক কারণে প্রতিরোধ দুর্বল মনে হয়।
প্রথম বড় অপচেষ্টা ছিল ৪ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে। ভোর ৩টার দিকে ১২ পুরুষ, ১০ নারী ও ৬ শিশু—মোট ২৮ জনকে সীমান্তে ঠেলে আনার চেষ্টা করা হয়। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা বিজিবি ও স্থানীয়দের দৃঢ় অবস্থানের কারণে প্রতি থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন বিএসএফ।
১২ জুন রোকনপুর নদীর পথে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে নৌকাযোগে ২ পুরুষ, ৮ নারী ও ৫ শিশুসহ ১৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে আনার চেষ্টা করা হলে সীমান্তরক্ষীরা তা রোধ করে। প্রায় দুই ঘণ্টা শূন্যরেখায় অপেক্ষার পর রাত ২টা ৪০ মিনিটে তাদের ফেরত নেয় বিএসএফ।
১৫ জুন রাতে মোটামুটিভাবে পৌনে ১১টার সময় একই সীমান্তে এক নারীকে নৌকায় করে পুশইন করার চেষ্টা স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রতিহত করে বিজিবি। এরপর ২০ জুন ভোরে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে নৌকাযোগে ৫ পুরুষ, ১১ নারী ও ৪ শিশুসহ ২০ জনকে আনা-নেওয়ার চেষ্টাও গ্রামবাসী ও বিজিবির সম্মিলিত প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়। স্থানীয়রা লাঠিসোটা নিয়ে মাঠে নেমে এই প্রচেষ্টা থামিয়ে দেন এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
পুশইন সফল করতে বিএসএফ কখনো গভীর রাত, কখনো শূন্যরেখায় মানুষ আটকে রেখে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের জোরালো প্রতিরোধ সব কৌশল নস্যাৎ করেছে। বিএসএফকে সহায়তা করার অভিযোগে ১৫ জুনের ঘটনার পর চার দালালসহ সাত বাংলাদেশিকে পুলিশ ও বিজিবি আটক করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের পুশইন কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। বিজিবি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সতর্ক অবস্থান পালন করে সব কৌশল প্রতিহত করছে। ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, তাদের অজ্ঞাত এলাকায় তিনবার পুশইনের চেষ্টা করা হয় এবং বিজিবির অনড় অবস্থার কারণে প্রতিটি চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।
সীমান্তের এই ঘটনার সারমর্ম হলো—সঠিক নজরদারি, সজাগ প্রহরা এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা মিলে পুশইন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। বিজিবি জানান, সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত থাকবে যাতে ভবিষ্যতে এ রকম কোনো অপচেষ্টা সফল না হয়।






