ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) তিনজন বিচারক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কানাডার বিচারক কিমবারলি প্রোস্ট, উগান্ডার সলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের রেইন অ্যাডিলেড সোফি আলাপিনি গানসু গত বুধবার ম্যানহাটেনের আদালতে মামলা করেন। তারা অভিযোগ করেছেন, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যে নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করেছে সেগুলো অবৈধ এবং বিচারবহির্ভূত চাপ সৃষ্টি করে তাদের শাস্তি ও নতি স্বীকার করাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।
বিচারকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লক্ষ্য করে চাপ তৈরি করেছে। গত বছর আইসিসির কিছু বিচারকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল—এর পেছনে একটি কারণ ছিল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করার পদক্ষেপ। ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের সম্পদ জব্দ করা হয় এবং তাদের সঙ্গে লেনদেনও সীমিত করা হয়।
বিচারকরা অভিযোগ করেছেন যে এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA)–এর পরিপন্থী, কারণ এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কোন বাস্তব জাতীয় জরুরি অবস্থা বা অস্বাভাবিক হুমকির প্রমাণ ছিল না। তারা আরও বলেন যে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ছিল তাদের ব্যক্তিগত এবং আর্থিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে আইসিসির বিচারকরা ও আদালতকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা।
নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে বিচারকরা বলেন, এর ফলে তারা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন না, ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত হয়েছে, সাধারণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন অ্যামাজন ও গুগল ব্যবহারেও অসুবিধা হচ্ছে, ভ্রমণের টিকেট বুক করা কঠিন হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবীমা পাওয়া যাচ্ছে না। এ সবের ফলে তাদের চলমান ও ভবিষ্যৎ মামলায় প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করাও ধীরগতি বা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তারা জানান।
আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে এতে প্রায় ১২৫টি দেশ সদস্য। আদালত গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের মত গুরুতর অপরাধের বিচার করতে সক্ষম। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেলে আদালত নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিচার করতে পারে। তবু যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশ আইসিসির কর্তৃত্ব স্বীকার করে না, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব বিচারকে জটিলতা ও রাজনীতিকরণে তোলে।
এই মামলার ফলে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হতে পারে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আল জাজিরার প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।






