আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকায়, দলের রিফাইন্ড বা তৃণমূল পর্যায়ে কোনো নামেই এখন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু মিডিয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং আইনসম্মত নন। সকলকে অবিলম্বে এই নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ জানাচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) মাধ্যমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলাকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকালে দেওয়া বক্তব্য ও তার অনুবাদ প্রচার হয়েছে। এসব বক্তব্যের শেয়ারিং ও প্রচার এখন থেকে আইনত বন্ধ। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে এগুলো প্রচার করতে মহা দায়িত্বের ব্যাপার।
এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দলটি এখন থেকে যতোটুকু কার্যক্রম চালাতে চায়, সেটি কোনোভাবেই রিফাইন্ড বা তৃণমূল হিসেবে সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত কিংবা দলীয়ভাবে এই কার্যক্রমসমূহ অবশ্যই আইনানুগ ভাবে সীমিত থাকবে।
প্রসঙ্গত, তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব স্বার্থ ও জনগণের দায়িত্বের ভিত্তিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। অন্য দেশের কোন তারক বা কনসার্ন এখানে প্রভাব ফেলতে পারবেন না।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা মূলত নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণের ওপর কেন্দ্রীভূত। এই কাজে চীনের অভিজ্ঞতা ও তহবিল রয়েছে, যা দ্রুততার সাথে কাজ শুরু করার নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্নের জবাবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নদী শাসনের ক্ষেত্রে কোনো আন্তর্জাতিক বা প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপ মানা হবে না। বাংলাদেশের স্বার্থে সচেতন ও স্বদিচ্ছা নিয়ে কাজ চলবে, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও সার্বভৌম দৃষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে সবকিছু সম্পন্ন করা হবে।
অতীতের সরকারের সময়ের সমালোচনা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সেখানে যেসব দেশ ও মতবাদে অর্থনৈতিক স্বার্থে সম্পর্ক চালু ছিল, বর্তমান সরকার সেই পথ থেকে সরে এসেছে। এখন বৈশ্বিক সদিচ্ছা ও স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিকে ছেড়ে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যাতে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ভাগ পাওয়া যায়। এতে অভ্যন্তরীণ নীতি ও নদী নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ।






