স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন সম্পূর্ণ; তারা নিপাত ও নির্মূল হয়ে দিল্লিতে দাফন হয়েছে, ফলে তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না।’’ তিনি বলেন, শিগগিরই দলটিকে রাজনৈতিক দায়িত্বরত হিসেবে বিচারকাঠগড়ায় নিয়ে আসার কাজ শুরু হবে। এসব কথা তিনি শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের বিচার করার আইনি সুযোগ রয়েছে। তিনি বললেন, দলটিকে রাজনৈতিকভাবে বিচারের আওতায় আনার দাবি বহুবার উঠেছে এবং এ সংক্রান্ত তদন্তও চলছে।
অভ্যুত্থান পেছনের রাজনৈতিক সংগঠন ও সমন্বয়ের প্রসঙ্গ তুলে সৌলাহউদ্দিন বলেন, ‘‘আমি ও আমার নেতা তারেক রহমান—দুজনেই নির্বাসিত ছিলাম। আল্লাহর দয়ায় যদি আমরা নির্বাসিত থাকতাম না, হয়তো জুলাইয়ের মতো এই আন্দোলন সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হত না।’’ তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে, ২৪ ঘণ্টা সমন্বয় রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে আন্দোলনকে একটি পর্যায় পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এক পর্যায়ে নেতারা বলেছিলেন—‘দফা এক, দাবি এক: স্বৈরাচারের পদত্যাগ।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যারা আজকে নিজেদেরকে ‘‘জুলাই যোদ্ধা’’ হিসেবে দাবি করেন, তাদের মধ্যে অনেকে তখন বলেছিলেন তাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নেই, তাদের দাবি ছিল কোটাসহ বৈষম্য দূর করা। কিন্তু, তিনি বলেন, স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় এবং তারা শেষ পর্যন্ত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে তাই সফল হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে সাড়ে চারশোর বেশি ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘‘এত বড় হত্যাকাণ্ডের পরও হত্যাকারীর কোনো অনুশোচনা নেই; তারা হত্যাকারীদের যুক্তি দিচ্ছে এবং প্রবাস থেকে আন্দোলনকে ‘জঙ্গি তকমা’ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’’
স্মরণসভায় সালাহউদ্দিন বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন। তার কথায়, ইতোমধ্যে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়েছে, ২৭টি মামলা বিচারাধীন এবং আরও ৭২টি মামলা তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এছাড়া—ফাঁসির আদেশ হয়েছে এমনদের মধ্যে (তিনি জানান) থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিও দেওয়া হয়েছে; তৎকালীন আইজিপি মামুন এবং আশুলিয়া ও রামপুরার হত্যা মামলার আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হওয়ার পরও সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য বাদীপক্ষ আপিল করবেন।
সর্বশেষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করলেন যে জুলাইয়ের চেতনাকে কেউ ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে পারবে না। যারা এই আন্দোলনের চেতনাকে বিক্রি করে রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা নেবে, তাদের ফলে ভবিষ্যতে দেখা যাবে—ঐতিহাসিকভাবে চেতনা বিক্রির ফল দুঃখজনক হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করেছিল, তারা আজ দিল্লিতে বসে আছে; দেশবাসী তাদের উৎখাত করেছে।
উপসংহারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘‘আমরা মহান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতিকে সংরক্ষণ করব, যাতে আগামীর প্রজন্ম দেখতে পারে কিভাবে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে কেউ এমন কার্যকলাপ করতে না পারে।’’






