দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। নাগরিক সেবা সুবিধার উন্নয়ন ও জনসংখ্যার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে চলমান সময়ে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা জেলার বর্তমান তিনটি উপজেলা বিভক্ত করে নতুন তিনটি উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে সম্প্রতি জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে।
গত বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১ শাখা থেকে আলাদাভাবে এই তিনটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়, যা নিশ্চিত করে নতুন এই জেলা উপজেলার নাম ও সীমান্তরেখা।
প্রথম প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার আওতাধীন বেশ কিছু ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে жаңа ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। এই জনপ্রিয় এলাকাটি শুধু প্রশাসনিক দিক থেকেই নয়, এলাকার জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। এই নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় দপ্তর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলগঠন করা হয়েছে, যেখানে মোট ২৩৮ জন কর্মী কাজ করবেন। এর মধ্যে ৪০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। অধিবাসীদের সুবিধার্থে এর সদর দপ্তর ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বিভাজন সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আটটি ইউনিয়ন—মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, লংগাইর, পাইথল, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী ও টাংগাব—সংবলিত হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা। একইভাবে, এই নতুন উপজেলা হিসেবেও ২৩৮ জনজনবল নিয়ে ২৪টি দপ্তর ও কর্মচারীর পদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মূল সদর দপ্তর উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজায় স্থাপন করা হবে।
অবশেষে, তৃতীয় প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার অধীনস্থ শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধৈইর (পূর্ব ও পশ্চিম), বাঙ্গরা (পূর্ব ও পশ্চিম), চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর (উত্তর) ও টনকী—এই মোট ১০টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা। এই উপজেলাটির জন্যও ২৪টি দপ্তর ও ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর প্রধান দাপ্তরিক সদর দফতর স্থাপন করা হয়েছে বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের খামারগ্রাম মৌজায়।
এই তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় নেতাদের প্রত্যাশা ও দাবির অবসান ঘটল। শুধু প্রশাসনিক বিভাজন নয়, এই উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে উন্নয়নের পথ সুগম করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এটি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাক্রম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অগ্রজ সম্প্রদায়ের জন্য সুখবর।






