গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে জলবায়ু চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বহুজন আহত হয়েছেন। এসব হামলা ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিক লঙ্ঘনের অংশ হিসেবে আঙ্খিত হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে ও বিভিন্ন সড়কে এখনও অনেক মানুষ আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকর্মী ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা অনেক এলাকায় পৌঁছাতে না পারায় আহত ও নিহতদের উদ্ধারে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসা সূত্র এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে একটি বাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-রিমাল এলাকায় এক বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে করা হামলায় একজন মারা গেছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিতে পৃথক এক ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়ে গেছে এবং আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন, ধ্বংসস্তূপ সরানো ও নিরাপদ করে তোলা না হলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সময় লাগবে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৫০৭ জন আহত হয়েছেন (৯ জুলাই পর্যন্ত)। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৭৩,১১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩,৬১৫ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপগুলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং হতাহতের প্রতিরোধে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অস্থির থাকা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিচ্ছিন্নতার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক সংখ্যার চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া কঠিন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।






