প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বর্তমান সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘‘অতীতের মেধাহীন ধাঁচ ছেড়ে এসে আমরা মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেশের নিরাপত্তা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’’
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চলমান বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রসঙ্গ তুলে মাহদী আমিন বলেন, সারাদেশে বৈরী আবহাওয়ার ফলে যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি তদারকি করছেন এবং দুর্গতদের পাশে থাকতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্দেশ দিয়েছেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার ত্রাণমূলক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বল্পসময়ে দুই কোটি পনেরো লাখ টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এই পাঁচ জেলায় এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে বারো হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় পেয়েছেন। এছাড়া দুর্গতদের মাঝে সরাসরি ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’’ তিনি যোগ করেন, দুর্গত এলাকায় খাদ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করছে।
শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সারাদেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, শিক্ষকদে র সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা চলছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘‘আসুন সবাই মিলে নির্বাচিত সরকারের হাতকে শক্তিশালী করি এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করে এই বাংলাদেশকে একসঙ্গে গড়ে তুলি।’’






