প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (১৫ জুলাই) শিক্ষকদের উদ্দেশে শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘‘শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনি—শিক্ষকরা। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনো শিশু নিষ্ঠুর কিংবা নির্দয় হয়ে না ওঠে, তা প্রাণী-প্রকৃতির প্রতি হোক বা মানুষের প্রতি।’’
অনুষ্ঠানটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে অনুষ্ঠানের সূচনা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে; এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা, ত্রিপিটক এবং বাইবেল থেকে অংশ পাঠ করা হয়। এক বিশেষ ভিডিওচিত্রে প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় অবদানের গল্প তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘‘আপনারাই পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ শিক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করছেন। শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিকতা গড়ে তোলাই আপনার কাজ—এজন্য আপনাদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তার প্রয়োজন হলে আমরা তা নিশ্চিত করব।’’ তিনি শিক্ষকদের কিছু সীমাবদ্ধতা ও সংকট থাকতে পারে বলে স্বীকার করে সেগুলো সমাধানের আশ্বাসও দেন।
শিশুদের কেবল লেখাপড়া নয়, খেলাধুলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘শিশুদের মন-বিকাশের জন্য খেলা-ধুলা অপরিহার্য।’’ পাশাপাশি তিনি প্রতি বর্ষায় প্রতিটি শিশুকে একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানান: ‘‘গাছটি বড় হবে, তোমরাও বড় হবে—গাছ তোমাদের বন্ধু হবে। গাছের নিচে বসে ক্লান্তি কেটে শান্তি মিলবে।’’
প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘‘আজ এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি একটা কারখানায় ঢুকে পড়েছি—একটা কারখানা যেখানে সবাই মানুষ গড়া নিয়ে কাজ করছে।’’
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনসহ অন্যান্য বরিষ্ঠরা উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশ থেকে আসা অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেবার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী, শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের একটি আকর্ষণ ছিল খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ বিষয়ে করা পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কের পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব—গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটকের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অতিথি সারিতে বসে এসব আয়োজন উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানটি শিক্ষাক্ষেত্রের গৌরব উদযাপন হলেও মূলমন্ত্র হিসেবে বারবার ফিরে এসেছে শিশুদের মেকিং-অফ-মানবতার অনুরোধ—শিক্ষকরা যেন তাদের পাঠ্যক্রম ও আচরণে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধের সামনে দাগ রেখে যান।






