তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বিরল বিদ্রোহ ও দলীয় সঙ্কটের মধ্যেই নিজের বয়সকে উপেক্ষা করে দল পুনর্গঠনের এবং ‘বিজেপি শাসনের শেষ দেখার’ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা জানিয়েছেন দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই—বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয় ও একাধিক নেতার দলত্যাগের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় মমতা এক ভার্চুয়াল বক্তব্যে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, মন-মানসিক শক্তিই মানুষের বয়স নির্ধারণ করে, তাই তার বয়স নিয়ে কেউ চিন্তিত না হয়।
ফেসবুকে দেওয়া ওই বক্তব্যে মমতা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, তিনি কি কখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে মন্তব্য করেছেন? বিজেপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফলের দিন কিছু বিজেপি কর্মী তার জন্য ‘হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু’ কামনা করেছিল, কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি মাঠ ছাড়বেন না।
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দলের অস্থিরতা নিয়ে মমতা জানিয়েছেন, যারা চাইলে দল থেকে চলে যেতে পারেন; তবে যারা বিশ্বস্ত তারা তাঁর ‘স্বর্ণখনি’—শক্তির উৎস। তিনি মনে করিয়ে দেন যে ১৯৯৭ ও ২০০৪ সালের মতো একলা লড়াই করে তিনি ২০২৬ সালে আবার সুর তুলতে সক্ষম হবেন।
মমতা বলেন, তিনি ইতোমধ্যে তিন প্রজন্মের নেতাকে গড়ে তুলেছেন এবং বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকবে। ‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’ স্লোগান উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এখনই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া তাঁর পরিকল্পনায় নেই।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ফুটে উঠেছে এবং দলের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে এসেছে—রাজ্য বিধানসভা ও কেন্দ্রীয় সংসদে অনেক বিধায়ক ও সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। বেশির ভাগ বিধায়ক বর্তমানে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, এবং ২০ জন লোকসভা সাংসদ একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দিল্লির এনডিএ জোটকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই আবেগপূর্ণ বার্তাটি এমন সময়ে এসেছে যখন মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ২১ জুলাই দলীয় ঐতিহাসিক শহীদ দিবস পালিত হবে—এবার ওই বিশেষ দিনে দলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে দু’ভিন্ন সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছে।
অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্ট এক রায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে না গিয়ে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে শহীদ দিবসের সভা করার অনুমতি দিয়েছে। یاد رہے, ১৯৯৩ সালে মমতার যুব কংগ্রেস সভাপতিত্বকালে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর স্মরণে এই দিবসটি প্রতি বছর পালিত হয়ে থাকে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই মমতার বার্তা স্পষ্ট: তিনি হাল ছাড়বেন না, সংগঠনকে מחדש করে সামনের লড়াই চালিয়ে যাবেন—তবে দলের ভিতরে থাকা ফটকা-উঠাপড়ে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি তৃণমূল এখন।






