নয়াদিল্লির একটি অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি দেওয়া অডিও বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যত কোথায় যাবে—এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভারতে নব্বই শতাংশ নির্ভর করছে। তিনি এ কথা বলেন গত ৬ আগস্ট, দিল্লিতে শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায়। অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ভারতীয় মাটিতে দেখা যায় এবং সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করেন, যা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতের ভূখণ্ডে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভাষ্য দিচ্ছেন এবং ভারত সরকার এটি অনুমোদন করছে, যা স্বাভাবিকভাবেই দেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।’ তিনি অারো অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ অতীতে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থার কথা তুলে ধরে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বেআইনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করে এসেছে। এখন এই কৌশল বিদেশের মাটিতেও অব্যাহত রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে বাংলাদেশের নাগরিক ও সরকার দুজনেই সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। তবে, যদি ভারতীয় মাটি থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং ভারতের সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্ক নানা দিক থেকে গড়ে উঠে। জ্বালানি, পানি, সীমান্ত ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ও জনগণের মধ্যে তরজা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে চলমান আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলো এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ। তাই ভারতের উচিত এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া।”






