প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পা রাখছেন। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১:৪০ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সেখানে পৌঁছান।
সরকারপ্রধানের এই সফরে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় বিপুল সংখ্যক জনতাকে সমাগম করতে দেখা গেছে। স্থানীয় মানুষজন তাঁকে এক নজর দেখার আকাঙ্ক্ষায় শান্তির জন্য ভিড় জমায়। জানা গেছে, এই সফর মূলত সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের কাছে নতুন ঘরবাড়ির চাবি হস্তান্তর করবেন এবং বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন।
এরপর তিনি বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে তাঁর একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে অন্তত ৫০ জন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন।
মাদ্রাসা পরিদর্শনের পরে তিনি হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ১৫ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
চট্টগ্রাম সফর শেষে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন তিনি। দলীয় সূত্র জানায়, এই সভায় চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপিসহ ১১টি অঙ্গ-সংগঠনের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা উপস্থিত থাকবেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী দলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করবেন, পাশাপাশি দলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে। কর্মসূচির সমাপ্তিতে রোববার রাত ৯:২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।






