বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অর্থের জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। তিনি আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষকদের অবসরকালীন টাকা পেতে কোন দপ্তর বা মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। জমানো অর্থ এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষকদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, যা বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রাপ্য কোন টাকা পাওয়ার সময় ঘুষের প্রয়োজন থাকবেনা, এতে জাতির দীনতা পরিস্থিতির কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে। এটি আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, নীতি ও নৈতিকতার শিক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ শিক্ষকগণ যেন হয়রানি ও হয়রানি-প্ররোচনামুক্ত থাকেন, সেটি রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০,১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ চার বছর পর তাঁদের অবসরপ্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ পান। এর ফলে হাজারো প্রবীণ শিক্ষকের জীবন আরও মানসম্পন্ন ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একইসঙ্গে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষাবিষয়ে অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর চালু করা ‘শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারী শিক্ষা’ কর্মসূচি আজ বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় ও প্রেরণাদায়ক। তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, অতীতে সরকারের অপকর্মের কারণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ অর্থাৎ দুটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল ক্ষতিগ্রস্ত ও অবহেলিত হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে সরকারের আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফান্ডে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষকদের অবসরপ্রাপ্ত বকেয়া দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের আশ্বাস দেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার পর আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোন ভোগান্তি থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দাসত্বও শেষ হবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে অর্থের লেনদেন স্বচ্ছভাবে অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের উন্নয়নের জন্য বিরাট ইতিবাচক উপলক্ষ। অবসর গ্রহণের পরেও শিক্ষকদের সামাজিক মূল্যায়ন ও অবদান চিরকালীন এবং সর্বজনগ্রাহ্য বলেও তিনি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন।






