মানবজাতির জন্য শান্তি ও মুক্তির দিশারি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদা দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। এটি কেবল এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং মানবতা ও শান্তির বার্তাবাহী মহানবীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশের বিশেষ দিন। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল, মহানবী (সা.) তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আলোর বাতিঘর হয়ে আবির্ভূত হন, এবং আজকের এই দিনে তিনি পৃথিবী থেকে চলে যাবার পরে তাঁর স্মৃতি এক অনন্য উৎসবের প্রতীক। মহা ইসলামের সূচনা ও পরিপক্বতা ঘটেছিল অন্ধকারের যুগে, যেখানে আলোর মশাল হয়ে প্রতিষ্ঠিত হন রাসুলুল্লাহ (সা.)। শৈশব থেকেই তিনি সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও মানবিক গুণাবলির প্রতীক ছিলেন। নবুয়ত লাভের পর, তিনি ২৩ বছর ধরে ইসলাম শান্তিপূর্ণ ও সত্যিকার অর্থে মানবতার দিশারী করে প্রচার চালান এবং মদিনায় ইনসাফ, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ক্ষমা, ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলি আজও বিশ্বের মানুষের জন্য অনুকরণীয়। পবিত্র এই দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুসল্লিরা মিলাদ, দোয়া, কোরআনখানি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মহানবীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষেরা নফল নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদত দ্বারা এই দিনটি পালন করছেন। রাজধানীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো খচিত পতাকায় সাজানো হয়েছে, যেখানে কালেমা ও নবীর আদর্শের প্রতীকে আচ্ছন্ন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক মাল্যবন্দনা ও বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল মিলাদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁরা মহানবীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমাজের উন্নয়নে আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এই দিন অবধি চলে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা ও মহত্বপূর্ণ কার্যক্রম। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনও এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মনে করেন, প্রিয় নবীর জীবনদর্শনই মানবতার প্রকৃত মুক্তির मार्ग। এই দিনে প্রার্থনা, আল্লাহর কাছে বিনম্র দোয়া ও আস্তে আস্তে তার আদর্শে নিজেকে আলোকিত করার মধ্য দিয়েই সবার জীবন শান্তি ও উন্নতির সূচনা ঘটে।






