পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের বোয়িং বিমান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত কোনও আন্তর্জাতিক চাপের জন্য নয়, বরং দেশের অগ্রাধিকার ও বৃহৎ অ্যাভিয়েশন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতে আমাদের আরও শক্তিশালী বিমান বহরের প্রয়োজন রয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অঙ্গীকারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপুর্ণ বিমানবন্দর ও রুটে আরও বেশি পরিষেবা দেয়ার জন্য অতিরিক্ত বিমানের প্রয়োজন। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের কাছে বর্তমানে ১৫০টির বেশি বিমান আছে, যেখানে আমাদের চাহিদা ৭০ থেকে ৮০টির মতো, আগামী ১০-১৫ বছর মধ্যে। তবে এখনও আমরা সেই অনুযায়ী আদেশ দিইনি, তবে অবশ্যই আরও বিমান কিনব।’ তিনি জানান, বিমান বহরে এয়ারবাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে, যা নীতিগতভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রশ্ন ওঠে যে, এই ক্রয় সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিদেশি চাপ কাজ করছে কি না, জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি কোনও প্রেশার নয়। এটা আমাদের অ্যাভিয়েশনের চাহিদা অনুযায়ী। আমাদের পর্যাপ্ত বিমানবহর নেই, আমাদের বহর বাড়ানো দরকার। অন্যথায়, আমরা পরিষেবা দিতে পারছি না, নতুন রুট খুলতেও পারছি না এবং আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে। নতুন বিমান বহরে যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে অ্যাভিয়েশন খাতের টার্নওভার বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি আরও বলেন, যদি বিমান না কেনা হয়, তবে যাত্রীদের চাপে সহ্য করতে না পারা, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ক্ষতি এবং দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে। আরো বেশি বিমান চালু থাকলে দীর্ঘমেয়াদে এর উপকারিতা অনেক বেশি।
প্রতিমন্ত্রী মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সম্প্রতি দেওয়া বোয়িং ক্রয় সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছি। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা অতিরিক্ত বিমান কিনব।’ তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আরও বিনিয়োগের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। মূলত, বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।






