নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থ বছরটির জন্য মোট বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৮ টাকা। এই ঘোষণা বৃহস্পতিবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রাক্কলিত অনুষ্ঠানে দেন প্রশাসক এএইচএম কামরুজ্জামান।
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে সমপরিমাণ আয় ধরা হয়েছে, তবে ব্যয়ের পরিমাণ থাকছে ৬৭৮ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৮ টাকা। এর ফলে নগরীর আয় থাকবে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ১৯ টাকা উদ্বৃত্ত। একই সময় তিনি বলেন, “নগরবাসীর উন্নত জীবনমান নিশ্চিত ও মানসম্মত নাগরিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিশাল বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।”
বাজেট পেশকালে তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নের নানা দিক বিবেচনায়। বৈদেশিক সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন, ৩০০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ৩৫ হাজার হোল্ডিংয়ে স্মার্ট মিটারসহ পানি সরবরাহের নেটওয়ার্ক, ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন, এবং পাঁচ হেক্টর জমিতে পার্ক, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি খাল ও পুকুর পুনরুদ্ধারেও বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নে তিনি জানান, জালকুড়িতে স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। কদমরসুল এলাকার জন্য কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ২৩৪ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিতদের জন্য ঋষিপাড়া ও ইসদাইরেও ৩৬৯টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ হয়েছে।
এছাড়াও, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নগরবাসীর প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নগরীতে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চললেও বাসা বাড়ি পরিষ্কার রাখা নাগরিকদের দায়িত্ব।” জুলাই মাসে শহীদদের স্মরণে ৩৪টি স্ট্রিটে মেমোরি স্ট্যাম্প স্থাপন ও চারটি কবর সংরক্ষণসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।
বিশেষ করে, সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়নের জন্য ভাতা, ক্ষুদ্রঋণ ও টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগর ভবনের অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিকগণ, সাংবাদিক ও সমাজের প্রতিনিধিরা। এই বাজেটের মাধ্যমে সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ, পানির সরবরাহ উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলার সুবিধা, জলাবদ্ধতা মোকাবেলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, যানজট কমানো ও সড়কবাতির উন্নয়নসহ নাগরিক সেবা ও সুবিধা বাড়ানো হবে।