বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইটে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কথিত ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ রাজধানীর মালিবাগ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ডেমরা, খিলগাঁও সহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও গণ জমায়েত করেছে খেলাফত মজলিস। সংগঠনটি তথাকথিত ‘নাস্তিক্যবাদী’ সব ব্লগ ও ওয়েবসাইট অবিলম্বে বন্ধ করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্লগারদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মীরা অভিযোগ করেন, অনলাইনে আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কতিপয় অসাধু নাস্তিক ব্লগার ও লেখক প্রতিনিয়ত কটূক্তি ও নোংরা ভাষায় লেখালেখি করছে। এ সময় তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা কোরবান আরী কাসেমী অভিযুক্ত ব্লগারদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘মুরতাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “এইসব নাস্তিক কুলাঙ্গারদের জন্য আমাদের বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা দিন দিন অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে। তাদের কারণেই সমাজের তরুণেরা বিপথগামী হচ্ছে। এই কুলাঙ্গারদের এতো সাহস কিভাবে হয় ইসলাম ও নবীজিকে নিয়ে কটূক্তি করার? তাদেরকে প্রকাশ্যে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে একদম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা হলে এই দেশে শান্তি ফিরে আসবে না। আমাদের নতুন এই বাংলাদেশে নাস্তিক-মুরতাদদের জন্য এক ইঞ্চি ও জায়গা হবেনা।”
খেলাফত মজলিসের নির্বাহী সদস্য মাওলানা এনামুল হক নূর বলেন, “আমাদের বাংলাদেশ এর মোট ৯৫ ভাগ মুসলমান। এই মুসলমানদের দেশে নাস্তিকতাকে কোন ভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা। আজ আমরা সকল আলেমগণ একত্র হয়ে অতরবর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি সকল ধরনের নাস্তিক ব্লগ, ম্যাগাজিন ও সকল ওয়েবসাইট চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। এই কুলাঙ্গার নাস্তিকদের সাহস অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। তারা ক্রমাগত আমাদের প্রাণপ্রিয় ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে যাচ্ছে। সকল নাস্তিক লেখক ও ব্লগারদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
এদিকে খেলাফত মজলিস এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল বলেন, “আমরা বেশ কিছু দিন ধরে লক্ষ্য করছি কিছু বেজন্মা নাস্তিক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, ইশতিয়াক আহমেদ, নাদিয়া ইসলাম, সুব্রত শুভ, দৃষ্টি দে, আসাদ নুর, সাইফুর রহমান, নাফিউর রেজওয়ান, অমি রহমান পিয়াল, নিলুফার হক, আরিফুল ইসলাম, জয় বিশ্বাস সহ কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্লগার ও লেখক প্রতিনিয়ত অনলাইনে আমাদের প্রাণের ধর্ম ইসলাম ও আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে অত্যন্ত বাজে ভাষা ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। বারংবার সতর্ক করা হলেও তারা এসব বাজে লেখালেখি বন্ধ করেনাই। দিন দিন তাদের ঔদ্ধত্য বেড়েই যাচ্ছে। সরকারের উচিত এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাতে করে ইসলাম কে এমন ভাবে কেউ হেয় প্রতিপন্ন করার সাহস না পায়।”
সমাবেশে আরেক ইসলামী বক্তা নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, “এই নতুন বাংলাদেশে নাস্তিকদের জন্য কোন জায়গা নাই। এটা ৩৬০ আউলিয়ার দেশ। ইসলাম ও নবিজীর সম্মান আমাদের দেশের প্রতিটি মুসলমান নাগরিক অন্তরে ধারণ করে। এই কুলাঙ্গারদের জন্য আমরা আমাদের শান্তি বিনষ্ট হতে দিবো না।”
উক্ত সমাবেশে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মী সাংবাদিকদের জানান, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য মেনে নেওয়া হবেনা এবং আল্লাহর আইন অমান্যকারীদের ‘এই পৃথিবী থেকে বিদায়’ করা তাদের ‘ঈমানী’ দায়িত্ব বলে তারা মনে করেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মী সাংবাদিকদের জানান, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হলে প্রতিবাদকারীকে ‘এই পৃথিবী থেকে বিদায় করা’ তাদের ‘ঈমানী দায়িত্ব’ বলে তারা মনে করেন।
‘সংশয়’, ‘এথিস্ট নোট’, ‘মুক্তমনা’, ‘অধার্মিক’, ‘এথিস্ট জাংশন’ সহ বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান। এছাড়া অনলাইন বা অফলাইনে ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য আইন প্রণয়নেরও দাবি তোলা হয়।






