জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের সমুদ্র ও নৌবন্দরগুলোতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করার জন্য নতুন ‘শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। ৩০ ডিসেম্বর এই জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে শিপিং এজেন্টরা কোনো স্বতন্ত্র নীতিমালা না থাকায় কাস্টমস এজেন্টদের জন্যvoering বিধিমালা অনুসরণ করে কাজ করতে হতো। তবে নতুন এই বিধিমালা চালুর মাধ্যমে শিপিং এজেন্টদের কার্যক্রম অনেক সহজতর ও আধুনিক হবে বলে আশাবাদী এনবিআর। এতে বিশেষ করে আমদানিকারকদের এবং রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেশনে জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
নতুন বিধিমালার আওতায় লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়তা করবে। এখন থেকে কাস্টমস স্টেশন ভিত্তিক লাইসেন্সের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন থাকবে না। ফলে লাইসেন্স বিতরণে অনুকূল ও দ্রুত এবং আবেদনপত্রের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। পাশাপাশি, শিপিং এজেন্টরা লাইসেন্সের জন্য আগের মতো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নাও নিতে পারে। আবেদনকারীর দাখিলকৃত নথিপত্র ঠিক থাকলে, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যেই লাইসেন্স দেওয়া হবে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এই খাতে প্রবেশের সুবিধা আরও বৃদ্ধি করবে।
এই নতুন বিধিমালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো লাইসেন্সের ভৌগোলিক পরিধি বৃদ্ধি। আগের নিয়মে, এক লাইসেন্স শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কাস্টমস স্টেশনের জন্য কার্যকর ছিল। এখন থেকে একটি লাইসেন্স থাকলে, একজন শিপিং এজেন্ট পুরো বাংলাদেশে যেকোনো সমুদ্র বা নৌবন্দর ছাড়াই তার কার্যক্রম চালাতে পারবেন। এই পরিবর্তন খাতে পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের গতিও বাড়াবে। এনবিআর জানিয়েছে, দেশের বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের সংস্কার ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।






