২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) প্রকাশ করা হয়েছে। শেষ প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতে মানুষের বিনিয়োগ ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও নির্মাণ খাত আবারও সংকোচনে পড়েছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও গতি বেড়েছে, তবে সেটা খুব বেশি শক্তিশালী নয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) এই প্রতিবেদন যৌথভাবে প্রকাশ করেছে।
নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে পিএমআই ০.২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪-তে এসে দাঁড়িয়েছেন। উল্লেখ্য, ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকলে বোঝায় অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং নিচে থাকলে সংকোচনের প্রবণতা।
পিএমআই একটি অগ্রগামী উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য হল দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সময়োজগতিক এবং নির্ভুল তথ্য প্রদান, যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এ সূচকটি তৈরি করতে সহযোগিতা করছে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট (এসআইপিএমএম)-এর কারিগরি সহায়তায়। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিসেম্বরে সামগ্রিকভাবে কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও নির্মাণ খাতে আবার সংকোচন দেখা গেছে।
বিশেষ করে কৃষি খাতে টানা চতুর্থ মাসের মতো সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং ডিসেম্বর মাসে এর গতি আরও বেড়েছে। নতুন ব্যবসা, কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও ইনপুট ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দ্রুত প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তবে অর্ডার ব্যাকলগ কিছুটা কমেছে, যা কাজের সক্ষমতা তৈরি করতে কিছুটা চাপের ইঙ্গিত দেয়।
উৎপাদন খাত টানা ১৬তম মাস সম্প্রসারণে থাকলেও, নভেম্বরের তুলনায় তার গতিতে কিছু হ্রাস দেখা গেছে। বেশিরভাগ সূচক — যেমন নতুন অর্ডার, রপ্তানি অর্ডার, কারখানার উৎপাদন, কাঁচামাল ক্রয়, আমদানি, মূল্যের ইনপুট, কর্মসংস্থান ও সরবরাহের ডেলিভারি — সবই উন্নতির দিকেই আছে। সমাপ্ত পণ্যের সূচকও বিকাশের পথে ফিরে এসেছে, যদিও অর্ডার ব্যাকলগের গতি কিছুটা ধীর হয়েছেপ্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্মাণ খাত ডিসেম্বর মাসে আবার সামান্য সংকোচনে পড়েছে। নতুন ব্যবসার সূচক সংকোচন দেখিয়েছে, আর নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান ধীরগতিতে চলমান থাকলেও ইনপুট ব্যয়ের সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। টানা পঞ্চম মাসে অর্ডার ব্যাকলগ কমে যাচ্ছে, যদিও সেই সংকোচনের হার ধীরস্থির।
সেবা খাত এখনো ১৫মাস ধরে সম্প্রসারণে রয়েছে, শেষে ডিসেম্বরেও এর গতি সামান্য বেড়েছে। যদিও কর্মসংস্থান ও ইনপুট ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও, নতুন ব্যবসা, কার্যক্রম ও অর্ডার ব্যাকলগে সংকোচনের প্রকিয়া চলছে, যা চাহিদার অস্থিরতা ইঙ্গিত দেয়।
ভবিষ্যৎ সূচকগুলো দেখে মনে হয়, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা — সব খাতেই প্রবৃদ্ধির লক্ষণ থাকলেও তার গতি ধীর। এটি সতর্কভাবে আশাবাদী হওয়ার জন্য ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘সর্বশেষ পিএমআই সূচক সামান্য অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রধান ভিত্তি হচ্ছে মজবুত কৃষি খাত।’ তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদন খাতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসছে এবং নির্মাণ খাত আবার সংকোচনে ফিরে গেছে। তবে আগামীতে বিভিন্ন খাতের সূচক ইতিবাচক থাকায় মনে হচ্ছে, অব্যাহত থাকবে অর্থনৈতিক ধীর গতি ও স্থিতিশীলতা, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের জন্য আশার কথা।’






