শীতের প্রবলতা কমে যাওয়ায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সরকারি ছুটির দিনেও বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যায় ব্যাপক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। শীতল আবহাওয়ায় সকাল থেকে মেলামে ভিড় বাড়তে থাকে, ব্যবসায়ীরা স্বস্তি ও আশার আলো দেখছেন। তারা বলছেন, দিন যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই বেচাকেনার পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নরসিংদীর শিবপুর এলাকার আবু হানিফ মিয়া জানান, প্রথম দিনই তিনি মেলায় আসার ইচ্ছে داشتেন, কিন্তু ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে আসতে পারেননি। তবে শুক্রবার সূর্য ওঠার পর তার মন আরও উজ্জীবিত হয়, তিনি সপরিবারে মেলায় এসেছেন।
অন্য একজন দর্শনার্থী নারগিস সুলতানা বলেছেন, আজ সূর্য উঠতেই তিনি মেলায় আগ্রহী হয়ে গেছেন। রোদে মেলার পরিবেশ বেশ ঝলমলে লাগছে, সেখানে এসে তিনি খুবই ভালো লাগছে। তিনি জানান, যদি পছন্দ হয় তাহলে দিনভর কেনাকাটা চালিয়ে যাবেন।
বৃষ্টির পর দীর্ঘ সময় সূর্যের দেখা না পেলেও, আজ আকাশ পরিষ্কার হওয়ায় রৌদ্র বেড়ে গেছে এবং শীতের প্রকোপ কিছুটা কমে এসেছে। ফলে মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি এখন অনেক বেশি।
প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সীমিত থাকলেও, চতুর্থ দিন অর্থাৎ আজ সকাল থেকেই মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তারা মূলত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন ও কেনাকাটা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। গত ৩ জানুয়ারি ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) শুরু হয়েছে এই ৩০তম বাণিজ্য মেলার। প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর প্রথম ঘন্টায় দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যারা মূলত স্টল ঘুরে দেখার আশায় এসেছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিন যত বাড়বে, ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যাও আরও বেড়ে যাবে। তবে পর্যাপ্ত জনসমাগমের জন্য আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন। এখনও কিছু স্টলে সাজসজ্জার কাজ চলমান রয়েছে।
প্রবেশ টিকিটের ইজারাদার ‘ডিজি ইনফোটেক লিমিটেড’ এর হেড অব অপারেশনের দাবি, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রথমদিকে যানজট ও জনসমাগম কম হলেও, শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়াতে সহায়তা করবে।
আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বানিজ্য মন্ত্রণালয় মেলাকে সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আশা করছেন, গত বছরের তুলনায় পরিবেশ অনুকূল থাকায় কেনাবেচা আরও চাঙ্গা হবে। নিরাপত্তার দিক থেকেও জোরে উল্লেখ করেছেন, ৭০০টির বেশি পুলিশ মোতায়েনসহ বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়াও, গেট ইজারাদার পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করছে।
আমিরা বিডি ডট কমের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে প্রথমদিকে মেলায় জনসমাগম কম ছিল, তবে আজ আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি অনেক বেড়ে গেছে। বিকেল হলে আরও বেশি দর্শনার্থীর আগমন আশা করা হচ্ছে। এই ছুটির দিনে অফিস, স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকায় ব্যাপক সংখ্যায় সাধারণ মানুষ মেলায় আসছেন।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর মারুফুল আলম বলেন, প্রথম দিকে আবহাওয়ার কারণে জনসমাগম কম থাকলেও আজ হঠাৎ তাপমাত্রা বাড়ায় ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল পর্যন্ত ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০,৫৪৪ জন দর্শনার্থী এই মেলায় টিকেট কেটেছেন, যার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।






