চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) দেশের রাজস্ব আদায়ে বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পৌঁছেছে। এর মধ্যে নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্বের ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার ৪৭৫৫ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে, যদিও অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেড়েছে মোট রাজস্ব প্রবৃদ্ধি।
এনবিআর এর আপডেট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। যদিও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। ফলে, ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৯৭৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে রাজস্ব আদায় ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার ২০৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এনবিআর এর রাজস্ব আদায়ের প্রতিবেদন থেকে এ সব তথ্য জানা যায়। পরিসংখ্যান বিভাগের সূত্র জানায়, ছয় মাসে বিভিন্ন কর খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে; এর মধ্যে আয়কর থেকে আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৮৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ৪০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফলে আয়কর খাতে ঘাটতি হয়েছে ২৩ হাজার ৫৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
শুল্ক বা কাস্টমস খাতে আদায় হয়েছে ৫২ হাজার ৮৬০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর ফলে শুল্কে ঘাটতি হয়েছে ১২ হাজার ১৪০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
ভ্যাট বা মূল্যবৃদ্ধি কর থেকে আদায় হয়েছে ৭০ হাজার ৪৯৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। এ কারণে ভ্যাটে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
এই তিন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৬.৮১%, ১৪.৬৭% ও ১৯.৯৭%। ডিসেম্বরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পারেনি এনবিআর। ওই মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার ১৯ লাখ ৫ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৫১ হাজার ৩৬৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। ডিসেম্বরে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.২৫%। এছাড়াও, ডিসেম্বরে শুল্ক থেকে ৯ হাজার ৯৫০ কোটি, আয়কর থেকে ১২ হাজার ২৬১ কোটি এবং অন্যান্য কর থেকে ১৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা আদায় করে এনবিআর।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। তবে ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করে।






