বাগেরহাট সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জুয়েলের প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে যশোর জেলা প্রশাসন। রবিবার জেলাব্যাপী এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাদ্দাম হোসেন জুয়েলকে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তার পরিবার থেকেও কোনো প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেনি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরের মাধ্যমে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা সময়ের অভাবে প্যারোলে আবেদন করতে না পারায় জেলগেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে এই টাইপের ছবি বা লেখা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো আবেদনই যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানানো হয়নি। পরিবারের অমোঘ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে পরিবারের স্বজনদের শেষ দেখা দেখা সম্ভব করেছে।
অভিযোগ, নিহত সাদ্দাম হোসনের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ও তার নয় মাসের শিশুসন্তান মৃত্যুর পরে তাদের লাশ দেখতে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকের অভিমত, প্যারোলে মুক্তির অনুরোধ না থাকায় লাশ দেখানোর জন্য তাদের কারাগারে আনা হয়।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে পরিবারের ছয় জন সদস্যকে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। স্ত্রী ও শিশুর শেষ দেখা দেখার জন্য মাত্র কয়েক মিনিট সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণার ঝুলন্ত লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় পড়েছিল তাদের নয় মাসের সন্তান নাজিম, যার সঙ্গেও নির্যাতনের সন্দেহ দেখা গেছে।






