চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই প্রবাসী আয় ভালো গতি ধরেছে—মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে মোট ১৩৫ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার সমমান রেমিট্যান্স। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার এই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে এবারে একটিও রেমিট্যান্স এল না। শূন্য রেমিট্যান্সের তালিকায় রয়েছে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং পাঁচটি বিদেশি ব্যাংক। বিশেষ করে কোনো প্রবাসী ওই ব্যাংকগুলোকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেননি।
শুন্য রেমিট্যান্স পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। একই সঙ্গে বিদেশি খাত থেকে আল ফারাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যেও ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৪ দিনে কোনো রেমিট্যান্স পড়েনি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রেমিট্যান্স বেশির ভাগই এসেছে সেই ব্যাংকগুলোয়, যেগুলোতে প্রবাসীরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯৪ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর শাখায় পৌঁছেছে ২০ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, আর বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে তুলনামূলকভাবে খুব কম—মাত্র ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
এর আগে গত জানুয়ারিতে দেশে ২১০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত সাত মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ৩৯২ কোটি ডলার পাঠিয়ে বড় রেকর্ড গড়েছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মত করে যদি ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকে, তাহলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার strong সম্ভাবনা রয়েছে।
রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়গুলো সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা সংগ্রহ করছে।






