টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হার দিয়ে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপের যাত্রা শেষ হলো। কলম্বোর মাঠে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ছিল লঙ্কানদের জন্য বিশ্বকাপের বাঁচা-মরা ম্যাচ, যেখানে জয় পেলে তাদের আগাম সুযোগ থাকত। কিন্তু মিচেল স্যান্টনারের ঝোড়ো ব্যাটিং ও রাচিন রবীন্দ্রের স্পিন জাদুতে ৬১ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। এই জয়ের ফলে কিউইরা পর্যায়ক্রমে দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, যা তাদের সেমিফাইনালে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, টানা দুটি ম্যাচ হেরে শ্রীলঙ্কার দীর্ঘ বিশ্বকাপ অভিযান এখানেই শেষ হলো।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা। শুরুর দিকটা খুব একটা সুখকর হয়নি, ওপেনার ফিল অ্যালেন ২৩ রান করে ঝোড়ো শুরু করার পর মাঝপথে শ্রীলঙ্কার বোলাররা চাপ তৈরি করে। ১২ থেকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড কেবলমাত্র ১৫ রান সংগ্রহ করে, ফলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ধীরেধীরে ক্ষীণ হয়ে আসে। তবে শেষের দিকটা বদলে দেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি। এই দুই ব্যাটার মাত্র চার ওভারে ৮৪ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন। স্যান্টনার মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, আর ম্যাককঞ্চি অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা তিনটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন।
১০৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা প্রথম দিকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পেসার ম্যাট হেনরির আঘাতে দলীয় প্রথম উইকেটেই পাথুম নিশাঙ্কা মাঠ ছাড়েন। পাওয়ার প্লের চাপ কাটিয়ে ওঠার আগেই রাচিন রবীন্দ্রের স্পিনের বলগুলির কাছে কুঁকড়াও হয়ে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। একে একে কুশল মেন্ডিস ও অধিনায়ক শানাকাসহ চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেয় রবীন্দ্র। ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্সে চারটি উইকেট নেওয়া এই স্পিনারের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। কেবল কামিন্দু মেন্ডিসের ৩১ ও দুনিথ ভেল্লালাগের ২৯ রান কিছুটা অস্তিত্ব উদ্ধার করলেও গড় পারফরম্যান্সের ভেতর দিয়ে বিদায় নিশ্চিত হয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৭ রান তুলতে সক্ষম হয় দলটি।
এই ম্যাচে বল হাতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন রাচিন রবীন্দ্র, তিনি একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ম্যাট হেনরি পান ২ উইকেট। এই জয়ের ফলে সুপার এইটের গ্রুপে শীর্ষে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড, যার সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। পাকিস্তান রয়েছে তিনে ১ পয়েন্ট নিয়ে, আর তলানিতে থাকা শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ অভিযান এখানেই শেষ। এই জয়ের মাধ্যমে কোয়ালিফাই হওয়ার দিক থেকে আত্মবিশ্বাসে ভরপূর হয়েছে নিউজিল্যান্ড, যা তাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে বড় প্রভাব ফেলবে।






