বাজারে অস্থিরতা, মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় পোল্ট্রি খাত সংকটাপন্ন—এসব উদ্বেগ তুলে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দ্রুত সহায়তা ও নীতিগত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; কিন্তু বাজারে খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। বিপিএ নেতাদের হিসাব অনুযায়ী দেশের পোল্ট্রি শিল্পের আকার প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং এই খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভর করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ। ফলে খাতটি ধীরে ধীরে সংকটগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, পোল্ট্রি খাতে কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেট স্বার্থান্বেষীভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। মুরগির বাচ্চা, খাবার ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে—যেখানে সাধারণত একটি বাচ্চার দাম সময় মতো থাকা উচিত প্রায় ৩০ টাকা, সেখানে কিছু কোম্পানি তা ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি করছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদন খরচ সামলাতে পারছে না; অনেকেই লোকসানের সম্মুখীন হয়ে খামার বন্ধের পথে।
সংগঠনটির নেতা সুলতান হাসান বলেন, ‘লোকসান করতে করতে আমাদের জীবিকা ও ভিটেমাটি সব হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবারের মত চলাচল করা কঠিন হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে বলছি—আমাদের প্রণোদনা দিন, আমাদের পাশে দাঁড়ান।’
সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিক। ডিম আমদানি ও অনিয়মে ক্ষুদ্র খামারিরা সবচেয়ে বেশি হতাহত হচ্ছে। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই, আমাদের সমস্যাগুলো সরাসরি জানাতে চাই।’
বিপিএ যে ছয়টি দাবি জানায় তার মধ্যে রয়েছে: ১) প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সহায়তা নিশ্চিত করা; ২) করপোরেট আধিপত্য ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; ৩) মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা ও মনিটরিং নিশ্চিত করা; ৪) খামারিদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন; ৫) ডিম ও মুরগির বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা চালু করা; এবং ৬) প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।
বিপিএ নেতারা সতর্ক করেছেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন—খামারিদের সমর্থন না দিলে পুরো খাতের মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়বে।






