সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ড দল। নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারসহ ডেভন কনওয়ে, গ্লেন ফিলিপস এবং ফিন অ্যালেনের মতো প্রধান তারকাদের অনুপস্থিতিতে অনেকেই কিউই স্কোয়াডকে ‘দ্বিতীয় সারির’ দল হিসেবে দেখছেন। তবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স সেই ধারণা পুরোপুরি নাকচ করেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। নিউজিল্যান্ডের বর্তমান তরুণ দলটি zwar আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় কম হলেও ঘরোয়া ফর্ম্যাটে দীর্ঘ সময় খেলে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে, এবং সেই কারণে তারা টাইগারদের জন্য বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
কিউই দলের অনেক বড় তারকা এইবার আইপিএল ব্যস্ততার কারণে বাংলাদেশে আসতে পারেননি; ফলে দলে জায়গা পেয়েছেন বেশ কিছু নবীন মুখ। সিমন্সের যুক্তি—নিউজিল্যান্ডের মতো ক্রিকেট জাতি ক্রমাগত মানসম্মত খেলোয়াড় গড়ে তুলছে, আর ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘকালীন প্রতিযোগিতা মোটেই অমূল্য নয়। তিনি বলছেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অভিশিক্ষণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও বিবেচ্য।
পিচ সংক্রান্ত পরিকল্পনাও স্পষ্ট করেছেন কোচ। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে ভালো ফল পাওয়ার পর সিমন্স এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। তাঁর বক্তব্য, স্পোর্টিং উইকেটে খেলা খেলোয়াড়দের দক্ষতা দ্রুত উঠে আসে এবং ম্যাচও দর্শকবান্ধব হয়—ঘরের মাঠের সুবিধা তোলা নয়, মানসম্মত ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট আয়োজনই তাঁর লক্ষ্য।
পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের তুলনায় যে চ্যালেঞ্জ আসে, সিমন্স তা নিয়েও সতর্ক। তাঁর মতে, পাকিস্তানের মতো তীব্র পেস আক্রমণ না থাকলেও নিউজিল্যান্ড নিজস্ব কৌশল ও গতিশীল খেলায় বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষা দিতে পারে। প্রতিটি সিরিজের স্বতন্ত্র শক্তি থাকে এবং কোচ হিসেবে তিনি দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন।
সিমন্স বলেছেন, পাকিস্তানের আগে দলের যে পেশাদার প্রস্তুতি ছিল, কিউই সিরিজেও তিনি একই রকম নিবিড়তা আশা করেন। মাঠে ধৈর্য, কৌশলগত সামঞ্জস্য ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাই স্মরণীয় লড়াইয়ের চাবিকাঠি হবে বলে তিনি মনে করছেন।
সংক্ষেপে, প্রধান কোচের বাস্তবমুখী ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব হয়ত দলের ভিত জোরদার করবে। নিউজিল্যান্ডের তরুণ কিন্তু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলে বাংলাদেশের সামনে একটি ভ্রমণযোগ্য ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অপেক্ষা করছে—আর সেই খেলা দেখার জন্য দেশজুড়ে ক্রিকেটভক্তেরা উৎসুক। সিরিজের শুরু থেকেই কিউইদের ছোঁড়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জয় ধরে রাখা এখন বাংলাদেশ দলের মূল লক্ষ্য।






