ওয়াশিংটনভিত্তিক দুটি ক্ষমতাশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা — আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক — আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা বহু বছর বিরতি পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করছে। ২০১৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে এসব সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত ছিল; এবার সেই বিচ্ছিন্নতা দূর করার সিদ্ধান্ত নিলে এ ঘটনা ভেনেজুয়েলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এক বিবৃতিতে বলেছেন যে সংস্থাটি এখন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কাজ শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, আইএমএফ-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামত বিবেচনায় নিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করছেন যে নতুন এই সম্পৃক্ততা ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। আইএমএফের ঘোষণার পরই বিশ্বব্যাংকও একই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত জানায়—যেখানে বলা হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক সর্বশেষ ২০০৫ সালে ভেনেজুয়েলাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তটি ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক কৌশলের সঙ্গে জড়িত। কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর থেকে ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়—এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর পুনরায় সম্পৃক্ততার পথ সহজ হয়েছে। অনেকে এটিকে রদ্রিগেজ সরকারের বৈধতা আন্তর্জাতিকভাবে পুনঃপেয়ারের একটি বড় Schritt হিসেবে দেখছেন। প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারি মাসে নিকোলাস মাদুরোকে নিয়ে ঘটনার পরে রদ্রিগেজ দায়িত্ব গ্রহণ করেন—এই প্রেক্ষাপটও সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্ব দিয়েছে।
রদ্রিগেজ নিজে এই পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেতে সহায়ক প্রমাণিত হবে। প্রশাসনিক ও আইনি পথ বন্ধ হয়ে থাকায় আগে ভেনেজুয়েলা বৈশ্বিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা চাইতে পারেনি—এখন সেই বাধা অনেকাংশে কমেছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার সংকটাপন্ন অর্থব্যবস্থাকে সচল করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আর্থিক সহায়তা ও কারিগরি পরামর্শ অপরিহার্য। দেশটির মোট বৈদেশিক দেনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন থেকে বেশি মার্কিন ডলার হিসেবে ধরা হচ্ছে; এই বিশাল ঋণের বোঝা হ্রাস ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও এনেছে—কিছু অংশীদার উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে এই ধরণের পুনরায় সম্পৃক্ততা দ্রুত ফল দেবে কি না বা তা রাজনীতিক শর্ত সাপেক্ষ কিনা। সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় অংশই এটাকে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন—বিশেষত সেই সমস্ত মানুষ যারা দীর্ঘ মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত। শেষপর্যন্ত এখন দেখার বিষয়, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই সহযোগিতা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির চাকা কতটা দ্রুত ও টেকসইভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে।






