ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গত রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এক তীব্র যুদ্ধের পর ম্যানচেস্টার সিটি ২-১ গোলে আর্সেনালকে হারিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। আর্লিং হালান্ডের বিজয়ী গল সিটির জন্য কেবল তিন পয়েন্টই জোগায়নি, বরং আর্সেনালের ২২ বছরের শিরোপা অপেক্ষাকে বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা এই জয়ে গত নয় বছরে সপ্তম শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দলেরা পূর্ণ গতিতে লড়াই চালায়। ১৬ মিনিটে সিটির হয়ে গ্যালারিকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেন রায়ান শেরকি — মাথেউস নুনেসের নিখুঁত পাস থেকে তিনি দ্রুত গোল করে দলকে সামনে নিয়ে যান। তবে এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; মাত্র দুই মিনিট পরেই গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার একটি ভুল হাত থেকে সুযোগ পেয়ে কাই হাভার্টজ সমতা ফিরিয়ে আনেন। দোন্নারুম্মা ব্যাক-পাস ক্লিয়ার করতে দেরি করায় হাভার্টজ বলটি ক্লিয়ারেন্সের ওই মুহূর্তটিকে কাজে লাগিয়ে গোল করেন, যা তার লিগে এই মৌসুমে এবং ফেব্রুয়ারির পরে প্রথম গোলে পরিণত হলো।
বিরতির পর আর্সেনাল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মানসিটির আক্রমণের ধার ছিল সক্রিয়। হালান্ডের একটি শক্ত শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে গিয়েছিল, আর আর্সেনালের সুযোগও ছিল—অধিনায়ক ওডেগার্ডের ক্রস থেকে হাভার্টজের সামনে আবারও সুযোগ এসেছিল, কিন্তু দোন্নারুম্মা দুর্দান্ত সেভ করে তা নাকচ করে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে সিদ্ধান্ত নেন আর্লিং হালান্ড। নিকো ও’রাইলির ক্রস থেকে রদ্রির ছোঁয়ার পর বল ডি-বক্সে পৌঁছালে হালান্ড শক্ত ও নিখুঁত ফিনিশিং করে সিটিকে ২-১ আগায় দেন। পরের কয়েক মুহূর্তে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েলের হেড পোস্টে লেগে ফিরে গেলে আর পাল্টানোর সময় পাননি মিকেল আর্তেতার দল।
এই হার আর্সেনালের পক্ষে টানা দ্বিতীয় পরাজয়, যা তাদের শিরোপা প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে যদিও আর্সেনাল কাগজে তালিকায় সামনের সারিতে আছে, ম্যানচেস্টার সিটির হাতে একটি ম্যাচকে বাড়তি রয়েছে—এই বিন্যাস সিটিকে কৌশলগতভাবে সুবিধায় বসিয়েছে। গত সপ্তাহে বোর্নমাউথের কাছে হারের পর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আরও পয়েন্ট খোয়ায় গুনারদের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লেগেছে। দুই দলই আগামী পাঁচটি ম্যাচকে এখন হার না মানার একেকটি ফাইনাল হিসেবে দেখবে।
একই রাতে লিভারপুল-এভারটন মার্সিসাইড ডার্বিতেও দর্শকরা উত্তেজনায় ভিক্ত হয়ে ওঠে। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে লিভারপুল এভারটনকে ২-১ গোলে হারায়; অতিরিক্ত সময়ের দশম মিনিটে ডমিনিক সবসলাইয়ের কোণের ক্রস থেকে ভার্জিল ফন ডাইক দুর্দান্ত একটি হেডে জাল কাঁপিয়ে দলকে জয় এনে দেন। এই জয়ের ফলে লিভারপুল পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠস্থ চেলসির চেয়ে সাত পয়েন্ট এগিয়ে গেছে এবং হাতে থাকা পাঁচটি ম্যাচে চেলসির বিরুদ্ধে লড়াই লিভারপুলের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার বড় চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের এই রোমাঞ্চকর রাত বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নতুন করে উত্তেজনা, নাটক ও অনিশ্চয়তার মিশ্রণ নিয়ে এসেছে। এখন বাকী ম্যাচগুলোই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে—শিরোপা কার, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কারা, সবই সামনে।






