সরকারি উদ্যোগে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি ডিজিটালে রূপান্তর করলেও মাঠপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা নানা কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতায় ভুগছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে এনবিআর আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংলাপে। মঙ্গলবার বিকেলে এনবিআর কার্যালয়ে ওই সংলাপে ব্যবসায়ীদের সরাসরি অভিযোগ জানানোর পর সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সমস্যা স্বীকার করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রাহক সেবায় অবহেলা বা কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সংলাপে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হারেস মোহাম্মদ বলেন, দীর্ঘদিন ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দেয়া সত্ত্বেও এখন তা গ্রহণ করা হচ্ছে না; অনলাইনে দাখিল করতে গেলে পুরোনো তথ্য আপডেট নেই বলে বাধা আসে। ‘‘প্র্যাকটিক্যালি আমরা অনেকদিন ধরে ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিচ্ছি। অনলাইনে গেলে বলছে—ডেটা আপডেট করতে হবে, কিন্তু সেটা কীভাবে করব, আমরা জানি না,’’ তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি তথ্য হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরের যাচাই-বাছাই ও দেরি ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ বাড়ায় বলে জানান তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান জবাবে বলেন, অনলাইন ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই ছিল ব্যবসায়ীদের কাজ দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজ করা। বিষয়টি শুরুর সময় নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া হয়েছিল এবং অনেকেই সেটি সম্পন্ন করেছেন। তবে মাঠপর্যায় থেকে যেসব প্রশাসনিক বাধার কথাই শোনা গেছে, সেগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া হবে—তিনি আরও জানান, ‘‘কোনো চেক নেই। যদি কোথাও পেন্ডিং থাকে, তার রিপোর্ট আমরা আজ সন্ধ্যায় নেব। কোথায় কতগুলো পেন্ডিং আছে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়। অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’
সংলাপে ম্যানুয়ালি নেওয়া তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণে এনবিআরের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চেয়ারম্যান কষ্ট স্বীকার করে বলেন, ‘‘একদম ঠিক বলেছেন। এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল, আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়েছি।’’
আলোচনায় ব্যবসায়ীদের আরেকটি অভিযোগ ছিল—ভ্যাট কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি হওয়ায় স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না তারা। একই সমস্যার জন্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হয় এবং অফিসের অভ্যন্তরীণ স্তরগুলোই প্রকৃত বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
এনবিআর প্রধান ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন খুলে সমস্যা বলার জন্য এবং নিশ্চিত করেছেন যে উঠে আসা প্রতিটি ইস্যু যাচাই করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আবারও বলে দিয়েছেন, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাস্তবতা নিশ্চিত না হলে ব্যবসায়ীরা কাঠামোগত সমস্যা থাকায় বাধ্য হয়ে ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দিতে থাকবেন—এটাই তাদের দৈনন্দিক বাস্তবতা।
সংলাপ থেকে পাওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দ্রুত পেন্ডিং তালিকা তৈরি করে সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তথ্য হালনাগাদ প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ। ব্যবসায়ীরা আগামী সময়ে এনবিআরের থেকে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।






