শরীয়তপুরের আমির হোসেন তালুকদার দীর্ঘ ২৭ বছর পরে প্রবাসে জীবন গুছানোর জন্য মালয়েশিয়ায় যান। তবে ১৯৯৬ সালে রং মিস্ত্রির কাজে সেখানে যাওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শুরুতে তিনি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং সংসার খরচ পাঠাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরিবারের সবাই ধরে নেন তিনি আর বেঁচে নেই।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং এলাকার এক গভীর জঙ্গলে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি তার খোঁজ পান। সেখানে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল অবস্থায় ছিলেন। প্রবাসী বন্ধুজনেরা তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে, পরিবারের জন্য বিষয়টি জানা যায়। পরে তদন্তে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পরবাসে কোনোমতে বেঁচে আছেন।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং মালয়েশিয়া সফররত বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুতই তার খোঁজখবর নেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তার জন্য ট্র্যাভেল পাস ইস্যু করে তাকে দেশে ফেরানো হয়। মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান, যেখানে তাকে স্বাগত জানান তার ছেলে বাবু তালুকদার ও প্রবাসী শরিকরা।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং এখন ব্র্যাকের সহায়তায় শরীয়তপুরের গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা ও কঠিন পরিস্থিতিতে থাকায় তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যই খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ব্র্যাক জানিয়েছে, তার চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য তারা সব ধরনের সহায়তা দেবে।
প্রবাসে দীর্ঘ ২৭ বছর পর প্রিয়জনের ফিরে আসাকে অনেকের জন্যই যেন এক অঘটন বা অলৌকিক ঘটনাই মনে হচ্ছে। এখন তার পরিবারের সদস্যরা ও গ্রামবাসী তাকে ঘিরে সুখ-দুঃখের স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন, আর আশা করছেন যেন দ্রুতই তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।






