কড়া নিরাপত্তার মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের ১৬টি জেলায় একযোগে ১৫২টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার থেকে শুরু করে বীরভূম, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই দফার ভোট চলছে। ভোর সাড়ে পাঁচটায় মকপোল অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই বহু ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এবার প্রথম দফায় ৩ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ভোট নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। মোট ৪৪,৩৬৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২,৪০৭টি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ নিরাপত্তা কর্মী নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকে।
এই দফারে মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে; তাদের মধ্যে রাজ্যের পরিচিত কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিধায়ক রয়েছেন। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাবকে এবারের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনের ফল অনুযায়ী এই ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৯২টি এবং বিজেপি ৫৯টি আসনে জয়ী হয়েছিল, ফলে এবারের প্রথম দফা উভয় শিবিরের জন্য শক্তি পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে।
ভোট শুরুর মুহূর্তে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার একটি বুথে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ভোটগ্রহণ কিছুটা বিলম্বিত হয়; তবে তা দ্রুত সমাধান করা হয় এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট চলছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজই দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনেও একযোগে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর আগে কেরালা, আসাম ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল।
আজকের ভোটগ্রহণ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। প্রথম দফার ভোট শেষে আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফায় বাকি ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। সব দফার ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা হবে আগামী ৪ মে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন ভোটারদের নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে।






