দেশের মানুষের স্বার্থে আলোচনায় বসতে বিরোধীদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা এক।” বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ সূচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বিরোধী দল যদি কোন পরামর্শ বা প্রস্তাব দেয় তবে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা করতে প্রস্তুত। বিএনপি যে কোন প্রস্তাব উপস্থাপন করলেই আমরা গুরুত্বসহ গ্রহণ করব।” এর মাধ্যমে তিনি সমঝোতা ও পারস্পরিক সম্মতির আশ্বাস দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘জ্বালানি তেলের সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, এটি বিশ্বজুড়ে একটি জটিল পরিস্থিতি। সরকার জনগণের স্বার্থে যথাযথভাবে সেবা দেয়ার চেষ্টা করছে। এরপরেও, যদি বিরোধীদল কোনও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব উপস্থাপন করে, তবে সরকারের সম্মতি থাকবে। আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংসদ শহীদ জাতির রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে তোলার জন্য দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা করছি, দেশের মানুষের স্বার্থের উপর ভিত্তি করে। দেশের মানুষের স্বার্থে উন্নয়নমূলক আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে আমি সব সময় প্ররোচিত থাকব।’
অতিরিক্ত জেলা উত্তরের জ্বালানি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালে তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের অবদানকে সাধুবাদ জানান।
কৃষি ও অর্থনীতির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার প্রসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী বোঝান যে, বর্তমান সরকার কৃষির উন্নয়নে সাত দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ। কৃষির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সেচে সমৃদ্ধি এবং কৃষকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছি।’
সেই সঙ্গে কৃষির আধুনিকায়নে প্রতি গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, কৃষি কার্ড বিতরণসহ নানা পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
“ক্রপ জোনিং” পদ্ধতি কার্যকর করে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির উপযোগী ফসলের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পতিত জমি চিহ্নিত করে কৃষির আওতায় আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেমন খাল খনন ও চরাঞ্চলের জমি চাষাবাদের আওতায় আনার লক্ষ্য।
কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণে সরকারের নানা উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ধাননির্ভর কৃষি খাত এখন ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে মনোযোগী হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ছে।”
প্রণোদনা কার্যক্রমের জন্য, কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সুদ কমানো, কৃষি বিমা চালু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন আরও সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ব্যপারে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থে এই সকল উদ্যোগ চালু থাকবে।’
একইসঙ্গে, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, গুদাম ও সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে পণ্যক্ষয় রোধ হয়। উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি ও ক্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির অব্যাহত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়।
অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এই খাতে তদন্ত ও শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “অর্থপাচার চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চুক্তি স্বাক্ষরে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”
সাংসদদের মধ্যে একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়, প্রধানমন্ত্রী বিনীতভাবে অনুরোধ করেন, ‘’’মহামান্য’’ শব্দটি ব্যবহার না করার জন্য, যাতে সুসম্পর্ক বজায় থাকে।’






