রাজধানীসহ দেশের সংবেদনশীল এলাকায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন শনিবার এ সতর্কবার্তাটির সত্যতা সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন এবং বলেন, সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিনে গ্রেফতার হওয়া ওই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী (আবু মোহাম্মদ)‑র প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃতের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণও মিলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে স্পর্শকাতর এলাকা ও জনবহুল স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং নজরদারি বাড়ানোর বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিটিটিসির পাশাপাশি ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদ জানান, তারা পুলিশ সদর দফতরের সতর্কতামূলক চিঠি পেয়েছেন এবং প্রটেকশন বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা সহায়তা দিচ্ছেন।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট অভিযানের মাধ্যমপরিকল্পনা ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম ও প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মুনশী শাহাবুদ্দীন দেশের উগ্রবাদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, প্রতিটি প্রাপ্ত তথ্য তিনি ও তার টিম অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে যাচাই করছেন। কোনো ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জনসম্মুখে মানুষকে অতিরিক্ত আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেন।
বর্তমান সতর্কতা পূর্বের কিছু মন্তব্য নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে — অতীতে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ‘দেশে জঙ্গি নেই’ ধরনের মন্তব্য করায় তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সিটিটিসির এই সতর্কবার্তা সেই কথোপকথনে নতুন প্রসঙ্গ যোগ করেছে।
প্রতিরোধ ও তল্লাশির অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি ভবন, জনবহুল বাজার ও যাত্রাবন্দরগুলোর আশপাশে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সাদা পোশাকে কনস্টেবলসহ টহলদার দল মোতায়েন করা হয়েছে। সিটিটিসির বিশেষ টিমগুলো সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের অনুরোধ — সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানান এবং আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।






