সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ আগামী ৮ মে সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ ট্রেলার প্রকাশ করেই সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ জানানো হয়, যা দর্শক এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা তৈরির साथ কৌতূহলও বাড়িয়েছে।
বড় পর্দায় প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন জিয়াউল রোশান ও শবনম বুবলী—এটাই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। ছবিটি মূলত বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, বিশেষ করে লাঠিখেলা ও প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের ওপর নির্মিত। নির্মাতা দেখাতে চাইছেন কিভাবে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম একে অপরের সাথে জড়িত।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দু একজন খ্যাতনামা লাঠি খেলোয়াড়—রোশানের চরিত্র। চরম আর্থিক সংকটের কারণে তিনি সংসারের প্রয়োজন মেটাতে এমন পর্যায়ে পৌঁছান যে বাড়ির আসবাবপত্রও বন্ধক রাখতে হয়। তার স্ত্রী তরুলতা (শবনম বুবলী) পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির তাগিদে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সে যাত্রা এক দুর্বিষহ মোড় নেয়—মানব পাচারকারীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তরুলতার জীবন এক মেদুর্ময় ভাগ্যে প্রবাহিত হয়।
রাখাল সবুজ পরিচালিত ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া এই চলচ্চিত্রের শুটিং ও পোস্টপ্রোডাকশন বেশ আগেই শেষ হয়েছে। নির্মাণের মধ্যবর্তী সময়ে ছবিটির নাম পরিবর্তন করে ‘পুলসিরাত’ রাখা হলেও প্রিভিউ কমিটির আপত্তির পর নির্মাতা পুনরায় মূল নামেই ফিরে আসেন।
রোশান ও বুবলীর পাশাপাশি সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ঢাকাই চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম এবং আজাদ আবুল কালামসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন, যারা কাহিনিকে গভীরতা যোগ করেছেন।
ট্রেলারটি পরিবেশক সংস্থা টাইগার মিডিয়া প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত প্রধান অভিনয়শিল্পী ও নির্মাণকরণ দলের পক্ষ থেকে প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য সরবতা দেখা যাচ্ছে না—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রোশান বা বুবলী কেউ সহজেসাধ্য পোস্ট শেয়ার করেননি। গত বছরের রোজার ঈদে মুক্তির কথা থাকলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল; অবশেষে এই মে’তেই দর্শকদের দেখা হবে।
চিত্রনাট্য ও ভিজ্যুয়াল ভাষায় বাংলা লোকজ ঐতিহ্যের বিলুপ্তপ্রায় রঙ এবং লড়াকু মানুষের বাস্তবসম্মত ছবি তুলে ধরা হয়েছে বলে নির্মাণশিল্পীরা আশা করছেন। নিয়মিত অ্যাকশন বা রোমান্টিক গল্প থেকে সরে এসে লাঠিখেলার মতো ভিন্ন থিম বাংলা সিনেমায় নতুনত্ব যোগ করতে পারে।
এখন দর্শক ও ব্যবসায়িক মহলের দৃষ্টি থাকবে—কম প্রচারণা থাকা সত্ত্বেও মুক্তির পর কিভাবে বক্স অফিসে সাড়া ফেলবে এই চলচ্চিত্র। সিনেমার বিষয়বস্তুর গভীরতা ও অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি অনেকেই মনে করেন দর্শকদের টানতে সক্ষম হবে, তবে শেষ কথা বলবে প্রেক্ষাগৃহ ও দর্শকের প্রতিক্রিয়া।






