চলমান আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের বাঁহাতি ব্যাটার সাই সুদর্শন ফের দারুণ ফর্মে ফিরেছেন। গত শুক্রবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে তিনি মাত্র ৫৮ বলে ১০০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা। তার এ ধ্রুবক আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সাহায্যে গুজরাট বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়, যদিও শেষ পর্যন্ত বিরাট কোহলির রেকর্ডময় ব্যাটিংয়ের সামনে দলটি জয়ের স্বাদ নিতে পারেনি।
এই সেঞ্চুরিটি কেবল এক ম্যাচের মাইলফলক নয়—এটি সুদর্শনের ব্যক্তিগত ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। একমাত্র ক্রিস গেইলের দখলে থাকা এক বিরল আইপিএল রেকর্ডে তার নামও উঠে এল: টানা তিন মৌসুমে সেঞ্চুরি করা। এতদিন পর্যন্ত এই কৃতিত্ব ছিল শুধুমাত্র গেইলের কাছেই (২০১১, ২০১২ ও ২০১৩), এখন বিশ্বের দ্বিতীয় এবং প্রথম ভারতীয় হিসেবে টানা তিন আসরে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্বে সাই সুদর্শনও ভাগীদার।
তাছাড়া সুদর্শন দ্রুততম ২ হাজার রানের রেকর্ডটিও নিজের করে ফেলেছেন। মাত্র ৪৭ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি ক্রিস গেইলের ৪৮ ইনিংসের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন। আইপিএলে ধারাবাহিকভাবে রান করার এই ক্ষমতা তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ব্যাটারে পরিণত করেছে।
২০২৬ সালের আসরে সুদর্শনের শুরুটা ততটা সুচারুভাবে যায়নি, পরপর ম্যাচে তিনি রান খরায় ভুগেছেন। তবুও বেঙ্গালুরু ম্যাচে মাঠের চারপাশে দৃঢ় স্ট্রোক খেলে, বোলারদের ওপর আধিপত্য রেখে দর্শক ও সমালোচকদের মনও জয় করেছেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে এই ইনিংস তাকে আইপিএলের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান এনে দিয়েছে এবং গুজরাট টাইটান্সের টপ অর্ডারের উপর তার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পারফরম্যান্সের পর দেশি-বিদেশি ক্রিকেট বিশ্লেষকরা সুদর্শনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখছেন; তার দ্রুততম ২ হাজার রান ও টানা তিন সিজনে সেঞ্চুরি করা রেকর্ড দুটোই ভবিষ্যতে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করা হচ্ছে। তরুণ এই ব্যাটারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করলে আগামী সিজনগুলোতে তাকে নিয়ে আরো বড় প্রত্যাশা সৃষ্টি হবে।






