সাউদাম্পটনের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতায় টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পুরো ম্যাচে বেশির ভাগ সময় গোলশূন্য থাকলেও শেষ দশ মিনিটে নাটকীয় আচমকা উত্থান-পতনের ঘটনার মধ্যেই জয় নিশ্চিত করে পেপ গার্দিওলার দল।
৭৯ মিনিটে ফিন আজাজের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় সাউদাম্পটন এবং তখন মনে হচ্ছিল তারা ফাইনালের স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই খুশি বেশিক্ষণ টিকেনি। ৮২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জেরেমি ডোকুর একটি ডিফ্লেক্টেড শটে গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনে সিটি। সমতা ফিরে এলেই উত্তপন শুরু হয়ে যায়—৫ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৭ মিনিটে নিকো গনজালেস বুলেটের মতো একটি জোরালো শটে বল জালে জড়ালেন এবং সিটির জন্য জয় নিশ্চিত করে দিলেন।
শেষ মুহূর্তের এই উলটপালটের ফলে সাউদাম্পটনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রত্যাশিত ঐতিহাসিক শিরোপার স্বপ্ন ভেস্তে গেল। অন্যদিকে এই যুদ্ধে সিটির ‘ট্রেবল’ জয়ের আশা একবারে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
গার্দিওলা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই বিবেচনায় নিয়ে ম্যাচে মূল একাদশে আটটি বদল এনেছিলেন। শুরুতে সিটির কিছুকাল ছন্দহীন খেলা দেখা গেল; তবে বদলগুলোই ম্যাচের ভাগ্য পাল্টে দিতে সাহায্য করে—ফিল ফোডেন ও কোভাসিচের বদলে নামা স্যাভিনিও ও জেরেমি ডোকু পর্যায়কালে দলে প্রাণ সঞ্চার করে। পরে আর্লিং হালান্ডকেও নামানো হয় সাউদাম্পটনের রক্ষণভাগে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে। গার্দিওলার পরিবর্তনগুলো নিঃসন্দেহে ফল দিয়েছে।
পুরো ম্যাচ জুড়েই সাউদাম্পটন সিটির তারকাখচিত দলের বিরুদ্ধে দৃঢ় লড়াই করেছে। প্রথমার্ধে সিটির রেইন্ডার্সের একটি শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে আসে এবং ফিল ফোডেনের একটি প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করা হয়। সাউদাম্পটনের লিও সিয়েনজার একটি গোলও হয়, তবে সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে তারা একবার আরও গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সিটির দৃঢ় রক্ষণ তা প্রতিহত করে।
এখন সিটি ফাইনালে গিয়ে শুধু একটি ম্যাচ দূরেই—মে মাসে ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে চেলসি অথবা লিডস। লিগ শিরোপার লড়াইয়ে আর্সেনালকে চাপিয়ে রাখার পাশাপাশি এই জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং গার্দিওলার অধীনে সিটি একটি শক্ত অবস্থানেই ঘরোয়া শিরোপা দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।






