জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার নিজেদের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ—বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। দলের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দলের অন্য কয়েকজন নেতা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিওর যোগের কথাও চলছে, তবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
নতুন নেতৃত্বের যোগদানের উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখ্তার হোসেনসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার আনুমানিক দুই হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে এনসিপিতে যোগ দেবেন এবং তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তৎকালীন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে—বিজ্ঞপ্তিতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর ছিল।
ইসহাক সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এবং সেই নির্বাচনকে ঘিরে তার নাম আলোচনায় ছিল। এখন তিনি এনসিপির দিকে রঙ ঢেলে রাজনৈতিক পরিসরে কাজ করতে যাচ্ছেন।
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরার এনসিপিতে যোগদানের খবরও দলীয় ইাঞ্চার্জদের মাধ্যমে এসেছে। আগে থেকেই এমন গুঞ্জন ছিল যে তিনি এনসিপি থেকে নির্বাচন করবেন; তৎকালীন সময়ে বিষয়টি শুধু আলোচনা পর্যায়ে আটকে ছিল। বর্তমানে জানা গেছে, তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদ দেওয়া হবে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি শুক্রবারই এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে; তবে তাঁকে দলের কোন পর্যায়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে মহিউদ্দিন রনিওর যোগ সংক্রান্ত আলোচনা চলে আসছে, কিন্তু তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি বলে এনসিপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।
দলের নতুন সদস্য ও নেতৃত্বগঠনের এই মুহূর্তগুলোতে এনসিপি কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং এসব যোগদান ভবিষ্যতে দলের কৌশলে কী পরিবর্তন আনবে, তা রাজনৈতিক মহলে নজরের বিষয় হয়ে থাকবে।






